মহাত্মা গান্ধীর জীবন ও অহিংসার আদর্শকে বিশেষ সম্মান জানাতে ২০২৭ সালের পুরুষদের একদিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপ আগামী বছরের ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীতে শুরু করার পরিকল্পনা করছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে এবং নামিবিয়ায় যৌথভাবে আয়োজিত হতে চলা এই মেগা টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনটিকে গান্ধীর জন্মবার্ষিকীর সঙ্গে যুক্ত করার এই ভাবনা আন্তর্জাতিক ক্রীড়ামহলে গভীর তাৎপর্য বহন করছে। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের রূপকার মহাত্মা গান্ধীর জীবনের প্রায় একুশটি বছর কেটেছিল দক্ষিণ আফ্রিকায়, যা তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক দর্শনের মূল ভিত্তি গড়ে তুলেছিল।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে শান্তি ও সংহতির বার্তা দিতেই বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই উদ্যোগ বিবেচনা করছে। একটি ক্রীড়া ওয়েবসাইটের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ববর্তী পরিকল্পনা অনুযায়ী টুর্নামেন্টটি আগামী বছরের ৮ অক্টোবর শুরু হওয়ার কথা ছিল এবং অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহটি প্রস্তুতি ম্যাচের জন্য নির্ধারিত ছিল। তবে সূচিতে সামান্য বদল ঘটিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচগুলো আরও কিছুটা এগিয়ে এনে মূল প্রতিযোগিতা ২ অক্টোবর শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। চুয়ান্নটি ম্যাচের এই দীর্ঘ টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ২১ নভেম্বর। মোট চৌদ্দটি দলের এই মহাযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে এবং নামিবিয়ার বারোটি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে।
এর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার আটটি মাঠ রয়েছে— জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়াম, তশোয়ানের সেঞ্চুরিয়ন, কেপটাউনের নিউল্যান্ডস, ডারবানের কিংসমিড, গেবেরহার সেন্ট জর্জ পার্ক, ব্লুমফন্টেইনের মাঙ্গাউং ওভাল, পার্লের বোল্যান্ড পার্ক এবং পূর্ব লন্ডনের বাফেলো পার্ক। এছাড়া জিম্বাবোয়ের হরারে স্পোর্টস ক্লাব, বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব এবং ভিক্টোরিয়া ফলসের মসিয়োতুনিয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচগুলি আয়োজিত হবে। নামিবিয়ার রাজধানী উইন্ডহুকের নামিবিয়া ক্রিকেট গ্রাউন্ডেও বিশ্বকাপের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। মহাত্মা গান্ধীর দক্ষিণ আফ্রিকা-যোগ এবং আফ্রিকান মাটিতে দুই দশক বাদে বিশ্বকাপের প্রত্যাবর্তনের সংযোগ ঘটিয়ে এই সূচি ক্রিকেটের আঙিনায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।














