Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

রাজ্য প্রশাসনে বড় চমক! মিঠুনের হাতে তথ্য-সংস্কৃতি, পেলেন ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা

রাজ্য প্রশাসনে বড় চমক! মিঠুনের হাতে তথ্য-সংস্কৃতি, পেলেন ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা

রাজ্য প্রশাসনে বড়সড় রদবদলের মধ্যেই এল চমকপ্রদ ঘোষণা। রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত হলেন প্রখ্যাত অভিনেতা তথা বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। শুধু উপদেষ্টা পদে নিয়োগ নয়, তাঁকে দেওয়া হয়েছে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদাও। রাজ্য সরকারের কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতরের আইএএস সেলের তরফে জারি করা নির্দেশিকায় এই নিয়োগের কথা জানানো হয়েছে।

 

সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, অবিলম্বে এই নিয়োগ কার্যকর হবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মিঠুন চক্রবর্তী এই পদে বহাল থাকবেন। নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। চলতি বছরের মে মাসে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব বণ্টন ও রদবদলের কাজ চলছে।

 

সেই আবহেই তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের উপদেষ্টা হিসেবে মিঠুনকে নিয়োগ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে মিঠুন চক্রবর্তীর প্রচার ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সভা, জনসংযোগ এবং প্রচারে তাঁর উপস্থিতি দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ তৈরি করেছিল। তাঁর জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করেছিল। সেই ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেও এই নিয়োগকে দেখছেন অনেকে। তবে রাজনৈতিক সমীকরণের পাশাপাশি তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উপদেষ্টা হিসেবে মিঠুনের নিয়োগের অন্য একটি দিকও রয়েছে।

 

দীর্ঘ কয়েক দশকের চলচ্চিত্রজীবনে তিনি বাংলা তথা ভারতীয় বিনোদন জগতের অন্যতম পরিচিত মুখ। অভিনয়ের পাশাপাশি বাংলার শিল্প, সংস্কৃতি এবং চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। ফলে সংস্কৃতি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা সরকারকে কাজে লাগাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। মিঠুন চক্রবর্তীর রাজনৈতিক পথচলাও যথেষ্ট ঘটনাবহুল। একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে রাজ্যসভার সাংসদ হয়েছিলেন তিনি। পরে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন এবং রাজনীতি থেকে কিছুটা দূরে সরে যান। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরেন তিনি। এরপর থেকেই বঙ্গ বিজেপির অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন মিঠুন।

 

শারীরিক অসুস্থতা ও নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নির্বাচনী প্রচারে তাঁকে বারবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা গিয়েছে। সভা থেকে রোড শো—বিজেপির হয়ে প্রচারে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি দলের অন্যতম তারকা প্রচারক ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে নতুন সরকারে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার জল্পনা আগে থেকেই ছিল। সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশের পর সেই জল্পনাতেই কার্যত সিলমোহর পড়ল। ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা পাওয়ায় তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর পরামর্শ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।

READ MORE.....