Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

যন্তর মন্তরে আর ধর্না-বিক্ষোভ নয়, প্রতিবাদের জন্য নতুন জায়গা নির্ধারণ করলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক

যন্তর মন্তরে আর ধর্না-বিক্ষোভ নয়, প্রতিবাদের জন্য নতুন জায়গা নির্ধারণ করলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক

দিল্লিতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচির দীর্ঘদিনের পরিচিত ঠিকানা যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। এবার থেকে যন্তর মন্তরে আর ধর্না, বিক্ষোভ বা প্রতিবাদ কর্মসূচি করা যাবে না বলে নির্দেশ জারি করা হয়েছে। পরিবর্তে রাজধানীতে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের জন্য তিনটি বিকল্প স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলি হল বুরারি ময়দান, রামলীলা ময়দান এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দান। এই সিদ্ধান্তের ফলে দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের প্রচলিত ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীন একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার কথা জানানো হয়। দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমারের স্বাক্ষরিত নির্দেশে যন্তর মন্তরকে নির্দিষ্ট প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

 

এর আগে ২০২২ সালের ২৮ এপ্রিল জারি করা স্থায়ী নির্দেশে যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। নতুন নির্দেশের মাধ্যমে সেই ব্যবস্থায় সংশোধন আনা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বিকল্প হিসেবে নির্ধারিত তিনটি জায়গায় বিক্ষোভ আয়োজনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অনুমতি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম মানতে হবে। এই স্থানগুলিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পরিচালনার জন্য সংশোধিত কার্যপদ্ধতি বা নিয়মাবলিও আলাদাভাবে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে শুধু স্থান পরিবর্তন নয়, প্রতিবাদ আয়োজনের পদ্ধতিতেও নতুন নিয়ম কার্যকর হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে বিতর্কের আবহে দিল্লিতে বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে। বিরোধী জোট ইন্ডিয়া এবং ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভের প্রসঙ্গও সামনে এসেছে। যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অনুমতি চেয়ে সরব হয়েছিলেন ককরোচ জনতা পার্টির নেতারা।

 

সোমবার পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানা থেকে বেরিয়ে তাঁরা প্রতিবাদের জন্য নির্দিষ্ট স্থানের দাবি জানান। তার পরেই এই নির্দেশ জারি হওয়ার বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে। যন্তর মন্তর দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপত্তার দিক থেকে সংবেদনশীল এলাকার কাছে অবস্থিত। সেখানে বড় জমায়েত হলে যান চলাচল, জননিরাপত্তা এবং জরুরি পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে বলে মনে করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প স্থান নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে সুপ্রিম কোর্টও যন্তর মন্তরের বিকল্প প্রতিবাদস্থল খুঁজে দেখার প্রসঙ্গ তুলেছিল। তবে নতুন নির্দেশ কার্যকর হওয়ার ফলে প্রতিবাদকারীদের এখন থেকে নির্ধারিত বিকল্প জায়গাগুলিতেই কর্মসূচির আয়োজন করতে হবে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার বজায় রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্যে প্রশাসন কীভাবে ভারসাম্য রাখে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

READ MORE.....