পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রামের সুয়াতা গ্রামে জমিদার ঘোষ বাড়ির প্রায় ৩০৫ বছরের পুজো। সাবেকি একচালা প্রতিমা এখানে। বংশানুক্রমিক নারায়ন সেবার রীতি থাকায় এখানে দুর্গা আরাধনা হয় সম্পূর্ণ বৈষ্ণব মতে। তাই রক্তবলির পরিবর্তে মহাষ্টমীর সন্ধিপূজায় এখানে ‘বাতাসা বলি’ দেওয়ার বিরল প্রথা রয়েছে। সন্ধিপূজার সময়ে পরিবারের মহিলারা সরায় ধুনো জ্বালিয়ে মুখে কাপড় দিয়ে দেবীর সামনে বসেন। যা এক অনন্য দৃশ্য। দেবীর সন্ধ্যারতিতে মূল নৈবেদ্য মুড়কি এবং কোজাগরী পূর্ণিমায় আলাদা করে নয়, দুর্গা মণ্ডপেই মা লক্ষ্মীর পূজা হয়।
এই দুই পূজাই আজ রাঢ় বাংলার সংস্কৃতির অন্যতম উজ্জ্বল নিদর্শন। কেন সুয়াতায় এই পুজোয় পশুবলির বদলে ‘বাতাসা বলি’ হয়? সেই বিষয়ে জানা যায়,ঘোষ পরিবারে প্রাচীনকাল থেকেই কুলদেবতা হিসেবে নারায়ণ সেবার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। দুর্গোৎসব শুরু হওয়ার সময় থেকেই গৃহদেবতার বৈষ্ণব ভাবধারা মেনেই দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু হয়। বৈষ্ণব ধর্মে কোনো প্রাণীবলি বা রক্তপাত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যেহেতু শাক্ত দেবীর আরাধনায় ‘বলি’ একটি শাস্ত্রীয় বা আবশ্যিক অঙ্গ বলে বিবেচিত হয়, তাই শাস্ত্রীয় রীতি মেনে পশুবলির বিকল্প হিসেবে রক্তপাতহীন মিষ্টি দ্রব্য অর্থাৎ বাতাসা বলি দেওয়ার নিয়ম চালু হয়। মহাষ্টমী তিথির শেষে এবং মহানবমীর সূচনায় অর্থাৎ সন্ধিপূজার চরম মুহূর্তে এই বিশেষ ‘বাতাসা বলি’ দেওয়া হয়। ৩০৫ বছরেরও বেশি প্রাচীন এই ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়ির পুজো বর্তমানে ঘোষ পরিবারের বংশধর ও সদস্যরা যৌথভাবে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করেন।
শুভেন্দু ঘোষ ও অন্যান্য শরিকগণ: পরিবারের বর্ষীয়ান ও বর্তমান প্রজন্মের সদস্যরা—যেমন শুভেন্দু ঘোষ সহ ঘোষ পরিবারের সকল শরিক ও শরিকি সদস্যরা পরিবারের এই সাবেকি নিয়মকানুন ও কুলপ্রথা বাঁচিয়ে রাখার মূল দায়িত্বে রয়েছেন। এটি পারিবারিক জমিদার বাড়ির পূজা হলেও আউশগ্রাম ও সুয়াতা গ্রামের বাসিন্দাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং উপস্থিতিতে পুজোটি সামাজিক উৎসবে রূপ নেয়।














