ছাব্বিশের ভোটের রণদামামা বেজে গিয়েছে। এখন পাখির চোখ বিধানসভা করে ঘর গোছাতে নেমেছে ঘাসফুল থেকে গেরুয়া শিবির। পিছিয়ে নেই বামেরাও। তবে এবার সমীকরণ বদলেছে। জোটের জট কাটিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে তারা বামেদের হাত ধরছে না। আর এতেই অক্সিজেন পাচ্ছেন বামফ্রন্টের ছোট শরিকরা। কংগ্রেসের ছেড়ে যাওয়া ৯৩টি আসন এখন কার ঝুলিতে যাবে, তা নিয়েই চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বাম অন্দরমহলে এখন একটাই প্রশ্ন, কংগ্রেসের হাত ছাড়ায় কি শরিকদের পোয়াবারো হবে? নাকি হিতে বিপরীত ঘটবে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেস সরে দাঁড়ানোয় বাম শরিকদের জন্য আসন পাওয়ার সুযোগ বেড়েছে। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ৯৩টি লড়েছিল কংগ্রেস। এবার সেই আসনগুলি বাম শরিকদের মধ্যে ভাগ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা। তবে মাঠ ফাঁকা পেলেও গোল দেওয়া সহজ হবে না। আলিমুদ্দিনের সামনে এখন পাহাড়প্রমাণ দুটি চ্যালেঞ্জ। প্রথমত, নিচুতলার সাংগঠনিক কঙ্কালসার দশা। দ্বিতীয়ত, তৃণমূল ও বিজেপির মেরুকরণের রাজনীতিতে নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনা। মানুষ কেন ‘বাইনালি রাজনীতি’ ছেড়ে কাস্তে-হাতুড়িতে ভোট দেবে, সেই উত্তর খুঁজছেন বিমান বসুরা।
জোটের জটিলতা এখানেই শেষ নয়। একদিকে কংগ্রেস নেই, অন্যদিকে নওশাদ সিদ্দিকীর আইএসএফ একগুচ্ছ আসনের দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছে বিমান বসুকে। যদিও আইএসএফ নেতৃত্ব জানিয়েছে, আলোচনার ভিত্তিতে সংখ্যার বদল হতে পারে। অন্যদিকে, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলনে পাশে থাকলেও নির্বাচনে থাকছে না এসইউসিআই। তবে বামেদের হাত শক্ত করতে মাঠে নামছে সিপিআইএমএল লিবারেশন। সূত্রের খবর, আলিমুদ্দিন তাদের জন্য ৭-৮টি আসন ছাড়তে পারে। যদিও লিবারেশন অন্তত ১২টি আসনের জন্য দরবার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তবে শরিক দলগুলো আসন পেয়েই আহ্লাদে আটখানা হোক, তা চাইছে না সিপিএম নেতৃত্ব। মুজফ্ফর আহমদ ভবন সূত্রের দাবি, ‘কংগ্রেস হাত ছাড়লেও বাম শরিকদের উৎসাহী হওয়ার কিছু নেই । কারণ, আসন পাওয়ার ক্ষেত্রে সেই নির্দিষ্ট আসনে সেই নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অবস্থান কী আছে, তা বিবেচনা করা হবে । এক্ষেত্রে, বামফ্রন্ট সরকারে থাকাকালীন কিংবা 2011 সালের আসন রফার ফরমুলা খুব একটা কাজে দেবে না । 2026 সালে বাস্তবের মাটিতে রাজনৈতিক ভিত্তি কী আছে, তা বিবেচনা করা হবে ।’ অর্থাৎ, দাক্ষিণ্য নয়, বরং লড়াইয়ের ক্ষমতা দেখেই টিকিট মিলবে।
ইতিমধ্যেই আলিমুদ্দিনে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের ঢল নেমেছে। সিপিআই ও ফরওয়ার্ড ব্লকের সঙ্গে এক দফা আলোচনা সেরেছে সিপিএম। কাল বিকেলে আরএসপির সঙ্গে বৈঠক। সূত্রের খবর, সিপিআই ২০টির বেশি আসন চেয়েছে। ফরওয়ার্ড ব্লক দাবি করেছে ২৬-২৮টি আসন। আইএসএফকে দেওয়া হতে পারে ৩০-৩৫টি আসন। বাকি সিংহভাগ আসনে লড়বে বড় শরিক সিপিএম। আগামী ১৯ ও ২০ ফেব্রুয়ারি রাজ্য কমিটির বৈঠকে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করবেন মহম্মদ সেলিম। তারপর সেই তালিকা অনুমোদনের জন্য যাবে দিল্লিতে পলিটব্যুরোর টেবিলে। এখন দেখার, কংগ্রেসের হাত ছেড়ে বামেরা কি একুশের শূন্য ঘুচিয়ে বিধানসভায় খাতা খুলতে পারবে? নাকি শরিকি কোন্দলে ফের আলগা হবে সংগঠন।













