Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

কমলপুরে প্রথম দুর্গোৎসব , থিম ‘চাষির ঘরে মা দুর্গা’

কমলপুরে প্রথম দুর্গোৎসব , থিম ‘চাষির ঘরে মা দুর্গা’

স্মরণাতীত কাল ধরে যে হাত দুটো সারা বিশ্বকে অন্ন জোগায়, দুর্গাপুজোর মাহেন্দ্রক্ষণে সেই অন্নদাতাদের সম্মান জানাতে প্রস্তুত সাগরদ্বীপের শান্ত-শ্যামল গ্রাম কমলপুর। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এ বছরই প্রথম গ্রামে আয়োজিত হতে চলেছে দুর্গোৎসব। কমলপুর সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রথম বছরের পুজোয় বেছে নেওয়া হয়েছে এক হৃদয়স্পর্শী ও তাৎপর্যপূর্ণ ভাবনা—”চাষির ঘরে মা দুর্গা”।

 

গঙ্গাসাগরের বাগুলি বাজারের কোল ঘেঁষে অবস্থিত কমলপুর গ্রাম। এতদিন নানা সামাজিক ও প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতার কারণে গ্রামে নিজস্ব কোনো দুর্গাপুজোর মণ্ডপ গড়ে ওঠেনি। ফলে প্রতি বছর দুর্গোৎসবে মহাঅঞ্জলি দেওয়া, ঢাকের বাদ্যি শোনা কিংবা মহা নবমীর কুমারী পুজো দেখার জন্য গ্রামবাসীদের ছুটে যেতে হতো মাইল মাইল দূরের মণ্ডপগুলিতে। উৎসবের আনন্দে মাতোয়ারা হলেও নিজেদের গ্রামে উমার আরাধনা না থাকার এক গভীর শূন্যতা তাড়া করে বেড়াত সবাইকে। তবে সময় বদলেছে। গ্রামবাসীর ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসে এবং পারস্পরিক সহযোগিতায় অবশেষে কাটল সেই অধরা স্বপ্নের জট। কমলপুর সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপে এখন গ্রামজুড়ে খুশির হাওয়া। বিশেষ করে গ্রামের নারীদের বাঁধভাঙা আনন্দ চোখে পড়ার মতো।

 

স্থানীয় বাসিন্দা জবা বাগুলি সিনা আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, “প্রতি বছর অঞ্জলি দিতে দূরের মণ্ডপে যেতে হতো। টিভিতে বা দূরের পুজোয় কুমারী পুজো দেখে খুব আফসোস হতো। এ বছর আমাদের নিজেদের মণ্ডপেই কুমারী পুজো ও অঞ্জলির আয়োজন হচ্ছে। আমাদের আনন্দের সীমা নেই।” চমকপ্রদ আধুনিকতা আর কৃত্রিমতার ভিড়ে কমলপুরের এই পুজো ফুটিয়ে তুলছে এক টুকরো নিখাদ গ্রামীণ বাংলাকে। অন্নদাতার কষ্টের বাস্তব চিত্র এবং আমাদের বিলুপ্তপ্রায় গ্রামীণ ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাই পুজো কমিটির মূল উদ্দেশ্য। পুজো উদ্যোক্তা সায়ন্তন দাস ও নবকুমার দাস জানান, সমাজকে আলো দেখানো কৃষকদের জীবন প্রায়শই থেকে যায় প্রদীপের তলার অন্ধকারে। সেই প্রান্তিক কৃষকদের অতীত ও বর্তমান সংগ্রামকে তুলে ধরা হচ্ছে মণ্ডপসজ্জায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যান্ত্রিকতার দাপটে ধান রাখার কাঠের গোলা, কাঠের লাঙল, কিংবা বলদে টানা গরুর গাড়ি আজ বিলুপ্তির পথে

 

। কমলপুরের মণ্ডপে বাঁশ, ছন এবং নিখাদ প্রাকৃতি ও কৃষিজাত উপাদানের ছোঁয়ায় সেই ঐতিহ্যবাহী ধানের গোলা, লাঙল ও গরুর গাড়িকে নিখুঁতভাবে পুনর্ব্যক্ত করা হচ্ছে। সম্পূর্ণ প্লাস্টিক ও রাসায়নিকমুক্ত এই মণ্ডপ যেন হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ রূপকথাকে জীবন্ত রূপ দিচ্ছে। অন্যতম উদ্যোক্তা রাজেশ জানা বলেন, “রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নানা পটপরিবর্তনের পর অবশেষে কমলপুরে মা দুর্গা পা রাখছেন। গ্রামবাসীর বিপুল সমর্থনে মণ্ডপ ও আলোকসজ্জার কাজ জোরকদমে চলছে। আমরা সাগরদ্বীপের সকল পুজোপ্রেমী মানুষকে আমাদের মণ্ডপে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।” শারদোৎসবের রীতিনীতিতেও থাকছে পরিপূর্ণ নিষ্ঠা। ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত আলোর রোশনাইয়ে সেজে উঠবে কমলপুর। মহা নবমীতে আয়োজন করা হয়েছে দেবীরূপী কুমারী পুজো এবং ভক্তদের জন্য মহাপ্রসাদ বিতরণ। কৃত্রিম চাকচিক্য সরিয়ে মাটির গন্ধ আর অন্নদাতার চিরন্তন অবদানকে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়ে কমলপুরের “চাষির ঘরে মা দুর্গা” এবার সাগরদ্বীপের পুজো পরিক্রমায় এক অনন্য অধ্যায় রচনা করতে চলেছে। এখন কেবলই বোধনের প্রতীক্ষা।

READ MORE.....