কলকাতা পুরসভা এলাকা এবং হাওড়া মিলিয়ে অ্যাপেলেট ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ২ লক্ষ ২৯ হাজার ৬০। অথচ এই বিপুল সংখ্যক মামলার মধ্যে এখনও পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ৫ হাজার ৪৮৫টি। সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ নিবিড় সংশোধন সংক্রান্ত মামলায় হলফনামা দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে দুর্গাপুজোর পরপরই কলকাতা এবং হাওড়ায় পুরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, ওই দুই পুর এলাকার সমস্ত ভোটার আদৌ ভোট দিতে পারবেন কি না। ঠিক এই আবহেই সুপ্রিম কোর্টে প্রকাশ পেল এই তথ্য। স্বাভাবিকভাবেই, মাত্র দু’মাসের মধ্যে এত বিপুল সংখ্যক আবেদনের নিষ্পত্তি আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, গোটা পশ্চিমবঙ্গ থেকে মোট দায়ের হওয়া আবেদনের সংখ্যা ৩৮ লক্ষ ২০ হাজার ৬৮৩। এর মধ্যে এখনও পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ১ লক্ষ ২ হাজার ২৩১টি আবেদন। শতাংশের হিসেবে যা মাত্র ২.৬৮ শতাংশ। কমিশন জেলাওয়াড়ি মোট আবেদন, নিষ্পত্তি হওয়া এবং বিচারাধীন আবেদনের পূর্ণাঙ্গ তালিকাও হলফনামায় জমা দিয়েছে। তবে নাম সংযুক্তি বা নাম বাদ দেওয়ার জন্য পৃথকভাবে কত আবেদন জমা পড়েছে, সেই বিস্তারিত হিসাব আলাদাভাবে উল্লেখ করেনি কমিশন। গত ১১ অগস্ট প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছিল, ট্রাইব্যুনালে কত মামলা বিচারাধীন রয়েছে, কতগুলির নিষ্পত্তি হয়েছে এবং কী ধরনের আবেদন জমা পড়েছে এই সমস্ত বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ-সহ রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
এমনকী নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনগুলির প্রেক্ষিতে ভোটার তালিকা যথাযথভাবে আপডেট করা হচ্ছে কি না, তাও জানতে চেয়েছিল শীর্ষ আদালত।শুনানিতে আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ আর্জি জানান, কলকাতা ও হাওড়া এলাকার আবেদনগুলিকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা করা হোক, যাতে পুরভোটের আগে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের সমস্যার সুরাহা হয়। এই পর্যবেক্ষণের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ ইঙ্গিত দেয়, প্রয়োজনে অ্যাপেলেট ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশও দিতে পারে শীর্ষ আদালত, যাতে বিচারাধীন মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হয়।















