Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

গ্যাসের জ্বালায় নাজেহাল জনতা,এবার ডেডলাইন দিয়ে পথে নামছে হাত শিবির

গ্যাসের জ্বালায় নাজেহাল জনতা,এবার ডেডলাইন দিয়ে পথে নামছে হাত শিবির

রান্নাঘরে আগুন নিভলে এ বার রাস্তায় আগুন জ্বলবে। রান্নার গ্যাসের আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি আর জোগান-সংকটের প্রতিবাদে এ ভাবেই রণংদেহি মেজাজে হুঙ্কার ছাড়ল প্রদেশ কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার কলকাতা জুড়ে বিক্ষোভ মিছিলে শামিল হয়ে মোদী সরকারের বিদেশ নীতিকে তুলোধনা করলেন ঘাসফুল শিবিরের দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষরা। পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার স্পষ্ট জানিয়েছেন, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে আগামী সোমবার পর্যন্ত তাঁরা অপেক্ষা করবেন। সমাধান না হলে ১৬ মার্চ থেকে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামবে দল। সম্প্রতি গার্হস্থ্য সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা এবং বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম ১৪৪ টাকা বাড়িয়েছে কেন্দ্র। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। কংগ্রেসের অভিযোগ, মোদী সরকারের ‘ভুল’ বিদেশ নীতির মাসুল গুনছে সাধারণ মানুষ।

 

 

সংকটের সুযোগে কালোবাজারি শুরু হয়েছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শুভঙ্করবাবু। তাঁর প্রশ্ন, ‘দুই সরকার কী করছে? রান্নাঘরে আগুন নিভলে রাস্তায় আগুন জ্বলবে! ১৬ মার্চ থেকে পথে নামব আমরা।’ কলকাতার রাজপথে এদিন প্রতিবাদের উত্তাপ ছিল তুঙ্গে। দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের তরফে হাজরা মোড়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। সেখানে জেলা সভাপতি প্রদীপ প্রসাদ সরাসরি আক্রমণ করেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীকে। তিনি বলেন, ‘এপস্টিন ফাইলে উজ্জ্বল নাম পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী একদিকে বলছেন, আমাদের ফুয়েল এবং গ্যাস পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত আছে, অন্যদিকে রান্নার গ্যাসের আকাল দেখা যাচ্ছে। হোটেল রেস্তরাঁ বন্ধ হয়ে পড়ছে।

 

 

যুদ্ধে অংশ না নিয়েও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কৃত্রিম অভাব তৈরি করছে বিজেপি সরকার।’ তাঁর দাবি, ট্রাম্পের কাছে মোদী সরকারের ‘আত্মসমর্পণ’ই আজকের এই পরিস্থিতির মূল কারণ। একই সুর শোনা গিয়েছে উত্তর কলকাতার হাতিবাগান মোড় থেকে বিধান ভবনের মিছিলেও। মোদী সরকারের পরিসংখ্যানের মারপ্যাঁচ নিয়েও সরব হয়েছেন শুভঙ্কর সরকার। তাঁর দাবি, মোট ব্যবহৃত এলপিজির মাত্র ৬ শতাংশ বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে লাগে। এই সামান্য অংশ বন্ধ করে দিয়ে খাদ্য, হোটেল ও পর্যটন শিল্পকে বিপদে ফেলা হচ্ছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির কথায়, ‘ফুড ও হোটেল ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যাঁদের জীবন-জীবিকা যুক্ত, তাঁদের আজ মাথায় হাত! অতএব অসংগঠিত ক্ষেত্রের উপর আবারও আঘাত নেমে এল।

 

রমজান মাস চলছে, ঈদ আসছে, এই অবস্থায় সরকারের এহেন সিদ্ধান্ত মানুষকে বিপদে ফেলা ছাড়া আর কিছুই না।’ ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হওয়াকেও সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে কংগ্রেস। শুভঙ্করবাবুর মতে, ‘ভারতবর্ষের অনেক পুরাতন বন্ধু হল ইরান। কিন্তু আজ মোদি সরকারের ব্যর্থ বিদেশ নীতি এবং অপরিণত সিদ্ধান্তের ফলে ইরানের সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্বে ফাটল ধরেছে।’ তাঁর দাবি, সুসম্পর্ক থাকলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকত। সব মিলিয়ে, সোমবারের ডেডলাইন শেষে রাজপথের লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

READ MORE.....