পুরুলিয়ার পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে গ্রানাইট ও খনিজ আহরণের কাজ ক্রমশ বেড়েছে, যা স্থানীয় ভূ–পরিবেশ ও ভূমিরূপের জন্য ভয়াবহ বিপদ তৈরি করছে। অযোধ্যা, জয়চণ্ডী, তিলাবনি, পানজানিয়া, ঢোলবুরু, গজাবুরু, চামটাবুরু, গরগাবুরু, শিকরা, কানসা ও বানসা সহ জেলার ছোট ছোট পাহাড়গুলো ছোটনাগপুর মালভূমির অংশ। ভূতত্ত্ববিদ ও পরিবেশবিদরা জানান, এই পাহাড়গুলো ৫৪–৫৫ কোটি বছর আগে গঠিত এবং প্রিক্যামব্রিয়ান যুগের গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক ইতিহাস ধারণ করে।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেবাশিস ঘোষ ও সিধো–কানহো–বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বজিৎ বেরা মনে করেন, এই এলাকার ভূতাত্ত্বিক গুরুত্ব অপরিসীম। পাহাড় ভাঙার ফলে ভূমিরূপ ও পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। পরিবেশবিদরা আরও জানিয়েছেন, পাহাড়গুলি স্থানীয় আদিবাসীদের সাংস্কৃতিক ও জীবিকার সঙ্গে যুক্ত।
ভূ–বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, উত্তরাখণ্ডে যেমন পাহাড় কেটে রাস্তা নির্মাণের ফলে ধসের ঘটনা বেড়েছে, তেমনভাবে পুরুলিয়াতেও পাহাড় ভাঙার কাজ চলতে থাকলে ভূমির ভিত্তি দুর্বল হয়ে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটতে পারে। সম্প্রতি একটি বিশেষ টিম পুরো এলাকা পরিদর্শন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে এবং উল্লেখ করেছে, এখনই প্রয়োজন উপযুক্ত পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।
তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, যদি পাহাড় ভাঙার কাজ অব্যাহত থাকে, পুরুলিয়াও হতে পারে ধরালির মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্ভাব্য স্থান।















