Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

ছাব্বিশের আগে তৃণমূলের মাস্টারস্ট্রোক

ছাব্বিশের আগে তৃণমূলের মাস্টারস্ট্রোক

আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেস এবার ‘পরিসংখ্যান ও পরিষেবা’ এই দুই প্রধান কৌশলে লড়াইয়ে নামার রূপরেখা স্পষ্ট করে দিয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যকলাপে সেই দ্বিমুখী নীতি সামনে এসেছে।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশল পরস্পরের পরিপূরক: একদিকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তথ্যভিত্তিক যুক্তি দিয়ে ক্ষোভ তৈরি করা, অন্যদিকে রাজ্যের জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা ও আবেগ ধরে রাখা। মহেশতলায় ‘সেবাশ্রয় ২’-এর উদ্বোধনে দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর স্মার্টফোনের পরিসংখ্যান দেখিয়ে তীব্রভাবে কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন।

 

তিনি জিএসটি বাবদ কেন্দ্রের প্রাপ্ত অর্থ, এবং আবাস যোজনা ও ১০০ দিনের কাজের আটকে রাখা বকেয়ার পূর্ণ হিসাব দেন। অর্থনৈতিকভাবে বাংলা পিছিয়ে পড়ার দায় সম্পূর্ণভাবে দিল্লির, এই বার্তা দেন তিনি। অভিষেকের আক্রমণের ঠিক একদিন পর নবান্ন সভাঘরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ শীর্ষক কর্মসূচিতে গত ১৫ বছরের কাজের খতিয়ান তুলে ধরেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, কৃষক বন্ধু সহ একাধিক প্রকল্পের মাধ্যমে কীভাবে রাজ্য সরকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, তাই ছিল তাঁর বক্তব্যের মূল ভিত্তি।

 

কেন্দ্রীয় বঞ্চনা সত্ত্বেও রাজ্য নিজের সামর্থ্যে কীভাবে মানুষের ভরসার জায়গা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী সেই দিকটিতেই জোর দেন। এই কৌশল প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অভিষেক যুক্তি দিয়ে দেখাচ্ছেন ‘কী পাওয়া গেল না’, আর মমতা দেখাচ্ছেন ‘কী দেওয়া হল’। দল একসঙ্গে কেন্দ্রবিরোধী মনোভাব ও রাজ্য সরকারের প্রতি আস্থা এই দুটি আবেগকেই কাজে লাগাতে চাইছে। শাসক দলের বড় রাজনৈতিক চাল হিসাবে সামনে এসেছে গ্রামীণ আবাস যোজনা।

 

 

লোকসভা ভোটের সাফল্যের পুনরাবৃত্তি চেয়ে ডিসেম্বরেই প্রায় ১৬ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে ‘বাংলার বাড়ি’-এর প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রায় ২৮ লক্ষ পরিবারের মাথার ছাদ নিশ্চিত করার এই উদ্যোগ গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্কে বড় প্রভাব ফেলবে। এছাড়া, গত দু’দিনে তৃণমূলের প্রচারে এক নতুন পেশাদারী ধাঁচ দেখা গিয়েছে।

 

অভিষেকের সংসদীয় রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ হোক বা ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ অনুষ্ঠানে শিল্পী ইমন চক্রবর্তীর অংশগ্রহণ পুরো আয়োজনে ছিল কর্পোরেট স্টাইলের শৃঙ্খলা। পোস্টারেও মমতা ও অভিষেকের ছবি পাশাপাশি আসার ঘটনা দলীয় কর্মীদের কাছে নেতৃত্বের ঐক্যের বার্তাও দিয়েছে। যদিও বিরোধীরা এই প্রচারকে ‘ব্যর্থতা ঢাকার কৌশল’ বলে কটাক্ষ করেছে, তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা আগামী দেড় বছর এই দ্বিমুখী পথেই হাঁটবে।

READ MORE.....