Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

জওয়ানকে গানস্যালুট ও চোখের জলে শেষ বিদায়

জওয়ানকে গানস্যালুট ও চোখের জলে শেষ বিদায়

অপেক্ষার অবসান হল। দিল্লি থেকে সোমবার সকালে বাঁকুড়ার জগদল্লা মাঝপাড়ার বাড়িতে ফিরল ভারতীয় সেনাকর্মী বেনুলাল পাত্রের নিথর দেহ। সকাল থেকেই রাস্তার দু-ধারে অপেক্ষায় ছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। প্রিয় সেনাকে শেষ বার দেখতে বাড়ির আগেই ভিড় জমিয়েছিলেন তারা। পরে শোভাযাত্রা করে কফিনবন্দি দেহ নিয়ে যাওয়া হয় বাড়িতে।

 

কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্য এবং পরিজনেরা। প্রায় ৪০ বছর বয়সি বেনুলালের কর্মসূত্রে পোস্টিং ছিল অরুণাচল প্রদেশে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে ব্যক্তিগত কাজে তিনি দিল্লিতে এসেছিলেন। সেখানেই শারীরিক অসুস্থতার কারণে আর কর্মস্থলে ফিরতে পারেননি। শনিবার রাত ৮টা নাগাদ দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এর আগে তার হৃদ্যন্ত্রে অস্ত্রোপচার হয়েছিল বলেও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে।

 

সোমবার সকালে তার দেহ বাঁকুড়ায় পৌঁছতেই জগদল্লা মাঝপাড়ায় নামে শোকের ছায়া। বাড়িতে ঢোকার আগেই রাস্তার দুধারে দাঁড়িয়ে ছিলেন বহু মানুষ। সেনাবাহিনীর তরফে বেনুলালের মরদেহ কফিনবন্দি করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিজেপির নেতাকর্মী সহ বাঁকুড়ার বিধায়ক নীলাদ্রি শেখর দানা। বেনুলালের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে বিধায়ক বলেন, এটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ভারতমাতার এক বীর সন্তান দেশের অখণ্ডতা রক্ষার পাশাপাশি ১৪০ কোটি মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্তে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অসুস্থতার কারণে তার প্রাণ চলে গেল।

 

এদিন তার শেষযাত্রার সাক্ষী থাকলেন কয়েক হাজার মানুষ। অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মন নিয়ে তাকে শেষ বিদায় জানাতে হল। বেনুলালের দীর্ঘ দিনের বন্ধুদের কাছেও তাঁ মৃত্যু যেন বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। এক বন্ধু বলেন, প্রাথমিক স্কুল থেকে আমরা একসঙ্গে পড়াশোনা করেছি। পরে হাই স্কুলেও একসঙ্গে ছিলাম। মাঠে একসঙ্গে দৌড়তে যেতাম, চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিয়েছি। প্রায় ১৯ বছর সেনায় কাজ করেছে। খুব শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিল। বাড়িতে ফিরলে নানা বিষয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হত। নিয়মিত যোগাযোগও ছিল। দেশ একজন সেনাকে হারাল। আর আমি হারালাম আমার ছোটবেলার এক ভাল বন্ধুকে।

READ MORE.....