টালমাটাল আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির মোড়ে দাঁড়িয়ে পাশ্চাত্য আধিপত্য ও ‘দ্বিমুখী নীতি’র বিরুদ্ধে উন্নয়নশীল বিশ্বকে একজোট হওয়ার ডাক দিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। রবিবার দিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ব্যবস্থা চরম অস্থিরতা, ঝুঁকি ও বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্কে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ব্রিকস গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলিকে ঐতিহাসিক দায়িত্ব নিতে হবে এবং ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর নেতৃত্ব দিয়ে এক ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সরাসরি আমেরিকার নাম না নিলেও ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক পদক্ষেপ এবং ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের একপেশে ‘নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা’ ও ‘জোর যার মুলুক তার’ নীতিকেই কার্যত কাঠগড়ায় তোলেন চিনা রাষ্ট্রপ্রধান। জিনপিংয়ের সাফ বক্তব্য, শক্তির জোরে আধিপত্য কায়েমের মধ্যযুগীয় যুক্তি আজকের বিশ্বে অচল এবং তা বহু আগেই ছুড়ে ফেলা উচিত ছিল। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নীতি—যেমন সার্বভৌমত্বের সমতা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিবাদ মীমাংসার মতো শর্তগুলি সব দেশের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে, যেখানে কোনো পক্ষপাত বা দ্বিমুখী নীতির স্থান থাকবে না।
কেবল রাজনৈতিক বিরোধিতাই নয়, ব্রিকস জোটের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক রূপরেখা বদলে দিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির নিরিখে একটি পঞ্চমুখী প্রস্তাবও পেশ করেছেন তিনি। যার মধ্যে রয়েছে—ওপেন সোর্স এআই কমিউনিটি গঠন, এআই-এর উন্মুক্ত ইকোসিস্টেম তৈরি, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলভিত্তিক অংশীদারিত্ব, ডিজিটাল ইকোসিস্টেম ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে মেধা বিকাশ। ভূ-রাজনীতির টানাপোড়েনে দাঁড়িয়ে দিল্লির মাটি থেকে বেজিংয়ের এই কূটনৈতিক বাউন্সার বিশ্বমঞ্চে নয়া মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মত আন্তর্জাতিক মহলের।














