Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সমাপ্ত হলেও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ যোগ্য হয়েও ছাঁটাই হওয়া শিক্ষক-শিক্ষিকাদের

পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সমাপ্ত হলেও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ যোগ্য হয়েও ছাঁটাই হওয়া শিক্ষক-শিক্ষিকাদের

প্রায় ৮ বছর অপেক্ষার পর অবশেষে রবিবার হয় এসএসসি-র লিখিত পরীক্ষা। নির্ধারিত সময়ে শুরুর পর তা একেবারে নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও ২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে যে সমস্ত শিক্ষক শিক্ষিকাদের চাকরি ছাঁটাই হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তারা বাধ্য হয়ে পরীক্ষা দিলেও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বাংলার তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে শুধুমাত্র দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৬ সালে চাকরি পাওয়া প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক শিক্ষিকা এবং শিক্ষা কর্মীর চাকরি ছাঁটাই এর আবহে নতুন করে পরীক্ষা গ্রহণ হলেও দুর্নীতির কালো মেঘ রয়ে গিয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সিপিএম এবং বিজেপি নেতারা।

 

এদিন পরীক্ষা দেন চাকরিহারা আন্দোলনকারী শিক্ষক সুমন বিশ্বাস, চিন্ময় মণ্ডল, মেহবুব মণ্ডলরাও। তাঁরা জানালেন, পরীক্ষা তো দিলেন, তবে এ পরীক্ষা দেওয়াটাই তাঁদের কাছে কতটা বেদনাদায়ক। যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষক সুমন বিশ্বাস অভিযোগের সুরে দাবি করেছেন, এই পরীক্ষাতেও অযোগ্যরা আছে! পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢোকার আগে তিনি বলেন, এসএসসি যে তালিকা দিয়েছে সেটা লিস্ট ওয়ান। সেখানে অযোগ্যরাও আছে। তাই এই পরীক্ষা নিয়েও মামলা হবে।

 

আমরা এক রাতের প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছি, কারণ জানি এরও বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুমনের অভিযোগ, এসএসসি নিজেদের অনিয়ম ঢাকতে তড়িঘড়ি করে পরীক্ষা নিচ্ছে। তারা বলছে লিস্ট ওয়ান প্রকাশ হয়েছে, আরও লিস্ট আসবে। তাহলে এই তাড়াহুড়োর কারণ কী? আমরা আশা করি, এবার আর আগের মতো ভুল হবে না। পাশাপাশি স্পষ্ট জানান – পরীক্ষা যেমন চলছে চলুক, কিন্তু নির্ভুল যোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, আমাদের মতে, দুর্নীতিগ্রস্তদের যে তালিকা স্কুল সার্ভিস কমিশন দিয়েছে, তা অসম্পূর্ণ।

 

এবারের চাকরিপ্রার্থীদের ভিড়ে কোনও দুর্নীতিগ্রস্ত লুকিয়ে রয়েছে কিনা, অর্থাৎ যাঁরা দুর্নীতিগ্রস্ত, তাঁরাও পরীক্ষা দিয়েছেন, তাহলে তা বাতিল হবে। তার দায় স্কুল সার্ভিস কমিশনকেই নিতে হবে। কারচুপি কোন স্তরে হবে, কোথায় হবে, সেটা তো নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। স্কুল সার্ভিস কমিশনের ওপর ভরসা রাখতে পারছে না, কারণ তাঁদের একটা অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে।

 

যেভাবে স্কুল সার্ভিস কমিশন বিগত দিনে দুর্নীতি করেছে, যেভাবে এখনও তাঁরা দুর্নীতিকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন, এখনও মুখ্যমন্ত্রী যাঁরা অযোগ্য, তাঁদের পক্ষে সওয়াল করছেন, সামগ্রিক প্রেক্ষিতে এই আশঙ্কা থাকতেই পারে। এই আশঙ্কা ভিত্তিহীন বলা যায় না। এদিন নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ছিল। রবিবার দুপুর ১২টায় রাজ্যের মোট ৬৩৬টি কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা শুরু হয়ে দেড়টায় শেষ হয়। তবে বিশেষভাবে সক্ষম পরীক্ষার্থীরা আধঘণ্টা অতিরিক্ত সময় পান, তাঁদের পরীক্ষা শেষ হয় দুপুর ২টোয়। এদিন কোনও রকম অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলার খবর মেলেনি। পরীক্ষা শেষে অধিকাংশ পরীক্ষার্থী জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র সহজ ও মানানসই ছিল।

 

তাঁদের মধ্যে অনেকেরই মত, এত দিনের অপেক্ষার পর নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তি পেয়েছেন। যদিও কেউ কেউ এখনও দুর্নীতি নিয়ে সন্দেহ করছেন। এরপর ইন্টারভিউতে কিছু কারচুপি হবে কিনা, সেই প্রশ্ন রয়েছে অনেকের মনে। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার বিজ্ঞপ্তি ইতিমধ্যেই জারি করেছে কমিশন। নবম-দশমে ২৩ হাজার ২১২টি এবং একাদশ-দ্বাদশে ১২ হাজার ৫১৪টি শূন্যপদে মিলিয়ে মোট ৩৫ হাজার ৭২৬টি পদে নিয়োগের জন্য পরীক্ষা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ন্যূনতম স্নাতক পর্যায়ে ৪৫ শতাংশ নম্বর থাকলেই আবেদন করা যেত। তবে পরে নিয়ম বদলে অন্তত ৫০ শতাংশ নম্বর বাধ্যতামূলক করা হয়।

READ MORE.....