২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির সংকল্প পত্রের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনার শুভ উদ্বোধন হল আজ রবিবার আয়ুষ্মান দিবসে। মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, এতদিন রাজ্যের ৭.৫ কোটি মানুষ স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের আওতায় ছিলেন। এবার রাজ্যের ৬ কোটি মানুষ আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় যুক্ত হবেন। বাকিরা মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনার অন্তর্গত হবেন। স্বাস্থ্য সাথি প্রকল্প এতদিন রাজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। অন্য রাজ্যেও আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাওয়া যাবে। তাঁর কথায়, সরকারের কাছে স্বাস্থ্য সাথীর তালিকা রয়েছে। আয়ুষ্মান ভারত বা মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনার কার্ড পেলে স্বাস্থ্য সাথী বন্ধ হয়ে যাবে।
একইসঙ্গে দু’টি প্রকল্প চলবে না বলেও জানান তিনি। আয়ুষ্মান ভারতে যুক্ত হলেন ১.৪৩ কোটি পরিবার, যার আওতায় রয়েছেন ৬ কোটি মানুষ। পাশাপাশি ৮০ লক্ষ পরিবার মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনার আওতায় এলেন। এই দুই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে ১,২৪০টি বেসরকারি এবং ৬০০-র বেশি সরকারি হাসপাতালে। বিগত সরকারের স্কিম রাজ্যের মধ্যেই সীমিত ছিল। এবার দুই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশজুড়ে ৩৮,৬০৪টি হাসপাতালে সুবিধা পাওয়া যাবে। বিগত সরকারের ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পের সীমাবদ্ধতা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগে কেবল রাজ্যের আনুমানিক ১৫০০টি হাসপাতালে সীমিত সুবিধা মিলত। ভেলোরের সিএমসি-তে কিছু দিনের জন্য সেই সুযোগ থাকলেও পরবর্তীতে তা বন্ধ হয়ে যায়।
কিন্তু এ দিন চালু হওয়া নতুন দুটি প্রকল্পের অধীনে পশ্চিমবঙ্গের ১২৪০টি বেসরকারি ও ৬২৭টি সরকারি হাসপাতাল তো বটেই, দেশ জুড়ে মোট ৩৮,৬০৪টি নথিভুক্ত হাসপাতালে রোগীরা বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে চিকিৎসার আওতাভুক্ত প্যাকেজ ১৭০০ থেকে বাড়িয়ে ১৯৫০টি করা হয়েছে। এর মধ্যে হাঁটু ও কোমর প্রতিস্থাপনের মতো জটিল ও ব্যয়বহুল অস্ত্রোপচারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ৭০ বছর ও তার বেশি বয়সের সমস্ত প্রবীণ নাগরিক এই সুরক্ষার আওতায় থাকবেন।
স্বাস্থ্য পরিষেবাকে সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করতে রাজ্য জুড়ে ১০০টি ‘অমৃত ফার্মেসি’ এবং ৪৬৭টি ‘প্রধানমন্ত্রী জন ঔষধি কেন্দ্র’ স্থাপনের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এ দিন। পাশাপাশি চোখের নিখরচায় চিকিৎসার জন্য সূচিত হয়েছে ‘সুদৃষ্টি’ কর্মসূচি। বেসরকারি হাসপাতালগুলির ‘ক্যাটাগরি-বি’ অনুযায়ী রেট সংক্রান্ত দাবির বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে জানান, মুম্বই, চেন্নাই বা বেঙ্গালুরুর মতো কলকাতার হাসপাতালগুলির সমস্যার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করবে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সুনীলজি এবং রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।














