শীতের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে কুপোকাত তিলোত্তমা। ক্যালেন্ডারের শেষ পাতায় এসে সব রেকর্ড ওলটপালট করে দিল ডিসেম্বরের আবহাওয়া। বুধবার শহর কলকাতার তাপমাত্রা নেমে দাঁড়িয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। চলতি মরশুমে এটাই শীতলতম দিন। ২০২১ সালের পর এই প্রথম কলকাতার পারদ এতটা নামল। বর্ষশেষের এমন কনকনে ঠান্ডায় কার্যত জবুথবু গোটা রাজ্য। সকাল থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা ছিল চারপাশ। দৃশ্যমানতা এতটাই কম ছিল যে কয়েক হাত দূরের জিনিস দেখতেও বেগ পেতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। উত্তুরে হাওয়ার দাপটে ঘরে-বাইরে সর্বত্রই এখন জবুথবু দশা। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, গত কয়েকদিন ধরেই তিলোত্তমার তাপমাত্রা ১২-১৩ ডিগ্রির আশেপাশে ঘুরছিল।
কিন্তু বুধবার সব হিসেব বদলে দিয়ে পারদ নামল ১১-র ঘরে। শুধু কলকাতাই নয়, জেলাগুলির অবস্থাও তথৈবচ। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে পারদ ইতিমধ্যেই ১০ ডিগ্রির নিচে নেমে গিয়েছে। পাহাড়ের রানি দার্জিলিং এখন ৫ ডিগ্রির আশেপাশে কাঁপছে। পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা ৯ থেকে ১০ ডিগ্রির ঘরে ঘোরাফেরা করছে। তবে উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে শীতের আমেজ থাকলেও তাপমাত্রা ১৩ থেকে ১৬ ডিগ্রির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এই হঠাৎ শৈত্যপ্রবাহের নেপথ্যে রয়েছে জোড়া ফলা।
মৌসম ভবন জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম ভারতে একটি নতুন পশ্চিমী ঝঞ্ঝা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে কেরলের উপরেও অবস্থান করছে একটি ঘূর্ণাবর্ত। এই দুইয়ের প্রভাবেই কনকনে ঠান্ডার কবলে উত্তরের রাজ্যগুলি। যার রেশ এসে পড়েছে বাংলাতেও। আপাতত দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বেলা বাড়লেও কুয়াশার দাপট বজায় থাকবে বলে পূর্বাভাস হাওয়া অফিসের। বছরের শেষে এমন জাঁকিয়ে বসা ঠান্ডায় হাসি ফুটেছে শীতবিলাসীদের মুখে।












