শুরু হয়ে গেল পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের হাইভোল্টেজ নির্বাচন। সোমবার সকাল ১০টা থেকে কলকাতা হাইকোর্ট-সহ রাজ্যের সমস্ত আদালতে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে এই প্রক্রিয়া। ২৩টি আসনের জন্য লড়াই করছেন মোট ৭৫ জন প্রার্থী। রাজ্যের কয়েক হাজার আইনজীবী আগামী দু’দিন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নতুন নেতৃত্ব বেছে নেবেন। আইন মহলের এই লড়াইয়ে শাসক থেকে বিরোধী,সব শিবিরের আইনজীবীরাই এখন ময়দানে। এবারের নির্বাচনে ২৩টি আসনের ভাগ্য নির্ধারণ হবে। মোট প্রার্থীর মধ্যে ১৮ জন পুরুষ এবং ৫ জন মহিলা আইনজীবী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন অনুযায়ী, ভোটের ফলের পর বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া আরও দুই মহিলা সদস্যকে মনোনীত করবে। ফলে সব মিলিয়ে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংখ্যা দাঁড়াবে দুইয়ে।
রাজনৈতিক সমীকরণের নিরিখে এবারের নির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থিত ২৩ জন, বিজেপি সমর্থিত ২২ জন এবং বামপন্থী ১২ জন প্রার্থী সরাসরি লড়াইয়ে রয়েছেন। এছাড়াও ১৮ জন নির্দল প্রার্থী ভোটযুদ্ধে শামিল হয়েছেন। হাইকোর্ট চত্বরে ভোট দেওয়ার জন্য তিনটি বুথ তৈরি করা হয়েছে। সকাল থেকেই কালো কোট পরা আইনজীবীদের লম্বা লাইন নজর কেড়েছে। প্রায় ১০ হাজার আইনজীবী এখানে ভোট দেবেন। তবে রাজ্যের সব জেলা আদালতে একযোগে ভোট চলায় ফলাফল জানতে বেশ কিছুটা সময় লাগতে পারে। উল্লেখ্য, গতবার বার কাউন্সিলের ফল প্রকাশ হতে প্রায় তিন মাস সময় লেগেছিল।
এবারের গণনার ক্ষেত্রেও সেই দীর্ঘসূত্রতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না ওয়াকিবহাল মহল। ভোটের আবহে বিতর্কও কম হয়নি। খসড়া ভোটার তালিকায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না থাকা নিয়ে জল গড়িয়েছিল হাইকোর্ট পর্যন্ত। পরে অবশ্য সেই তালিকা সংশোধন করা হয়। অন্যদিকে, সম্প্রতি রাজ্যের আইন দফতরের দায়িত্ব নিজের হাতে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রশাসনিক রদবদলের আবহে বার কাউন্সিলের নির্বাচন রাজনৈতিকভাবে বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। ‘দু’দিনের ভোটপর্ব শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হবে’ বলে আশাপ্রকাশ করেছেন নির্বাচন পরিচালনাকারীরা। এখন দেখার, শেষ হাসি হাসেন কারা।













