২০১৬ সালের পরে দীর্ঘ আট বছর কেটে গিয়েছে। বাংলায় শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগের জন্য সম্পন্ন হল এসএসসি পরীক্ষার প্রথম ধাপ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষা কর্মীর চাকরি বাতিলের পরে সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন মেনে আজ রবিবার, পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন পরীক্ষা নিল নবম-দশম শ্রেণীর শিক্ষক শিক্ষিকাদের জন্য এসএসসি পরীক্ষা। এসএসসি বলছে এবার পরীক্ষায় বসছেন মোট ৫ লক্ষ ৬৫ হাজার চাকরিপ্রার্থী। ৭ ও ১৪ তারিখ হচ্ছে পরীক্ষা। ৭ তারিখ নবম-দশমের পরীক্ষায় বসছেন ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৯১৯ জন চাকরিপ্রার্থী।
কিন্তু সকাল থেকেই দেখা গেল এবার বাংলার শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় ঝাঁকে ঝাঁকে এলেন ভিন রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীরাও। ২০১৬’র পরীক্ষায় হিন্দি মিডিয়ামদের অনুমতি ছিল না বলে খবর। এবারেই প্রথম। অন্যদিকে ভারতীয় নাগরিক হলেই পরীক্ষায় বসা সম্ভব। তাই ভিন রাজ্যে্র পরিক্ষার্থীদের আবেদনে কোনও বাধা নেই। যাঁরা এসেছেন তাঁদের বেশিরভাগই হিন্দি মিডিয়াম ও ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে শিক্ষকতা করবেন। হিন্দি মিডিয়ামে আজকের পরীক্ষার শূন্যকপদ ২২৫১।
সেই শূন্যষপদের জন্যভই আবেদনের পাহাড় জমা হয়েছিল বলে খবর। উত্তর প্রদেশ থেকে রাজস্থান, সব রাজ্যে থেকেই এসেছেন পরীক্ষার্থীরা। এসএসসি সূত্রে খবর, এদিন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৯১৯ জন প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩১ হাজার পরীক্ষার্থী রাজ্যের বাইরের—উত্তরপ্রদেশ, বিহার-সহ অন্যান্য রাজ্য থেকে এসেছেন। অর্থাৎ মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ১০ শতাংশই বাংলার বাইরে থেকে আসা। রাজস্থান থেকে আসা এক পরীক্ষার্থী বলছেন, ওখানে পরীক্ষা কঠিন কিন্তু এখানে পদ্ধতি সোজা, তাই এসেছেন। তাঁর সাফ কথা, দুর্নীতি সব জায়গায় হয়, ওটা ব্যাপার নয়। মনীন্দ্র চন্দ্র কলেজের বাইরেও উত্তর প্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড থেকে প্রচুর চাকরিপ্রার্থী এসেছেন পরীক্ষা দিতে। উত্তর প্রদেশ থেকে আগতদের সংখ্যাটাও নেহাত কম নয়। তাঁরা বলছেন, সেখানে কাজ নেই।
৪ বছর পরীক্ষা না হওয়ার কথাও বলছেন অনেকে। তাই কাজের আশা এবার বাংলায়। ভিন রাজ্যের এক পরীক্ষার্থী বলছেন, ঝাড়খণ্ড হোক বাংলা, সর্বত্রই দুর্নীতিতে ভর্তি। ঝাড়খণ্ডেও সিট বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। পেপার লিক হয়েছে। বেনারস থেকে এসেছেন আরও এক পরীক্ষার্থী। তিনি বলছেন, উত্তর প্রদেশে কোথায় চাকরি? ওখানে কাজের সুযোগ অনেক কম। ২০১৮-২০১৯ সালের পর থেকে আর কোনও ভ্যাকেন্সি নেই। চার-পাঁচ বছর হয়ে গেল পরীক্ষা হয়নি। উত্তর প্রদেশ থেকে আসা আর এক চাকরিপ্রার্থী বলছেন, ওখানে চাকরির সুযোগ খুবই কম। বেকারত্ব তো গোটা দেশে চরমে উঠেছে। পুরোটাই জুমলা চলছে গোটা দেশে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যে যখন বাঙালি পরিচয় শ্রমিকদের উপরে অত্যাচারের অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে সেই সময় বাংলার এসএসসি পরীক্ষায় বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে পরীক্ষার্থীরা এসে পরীক্ষা দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানউতোর।
তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, বাংলার এসএসসির পরীক্ষা দিতে আজ হাজির যোগীরাজ্যসহ ভিনরাজ্য, ডবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্যের কর্মপ্রার্থীরা। অনেকে বলছেন ওখানে চাকরি নেই। ঠিকমত পরীক্ষা হয় না। বারবার স্থগিত হয়েছে। ইত্যাদি। তাঁরা এখানে পরীক্ষা দিতে এসেছেন। কিছু বুঝলেন? প্রসঙ্গত, এখানে কেউ বলেনি বাংলার চাকরির পরীক্ষা শুধু বঙ্গবাসী দিতে পারবে। কেউ হয়রান করেনি। অপমান করেনি। বাধা দেয়নি। কিছু বুঝলেন? জয় বাংলা। তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলছেন, আসলে দুধ আলাদা হয়ে যাচ্ছে, জল আলাদা হয়ে যাচ্ছে।
এদের বক্তব্যে সবটাই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। গোটা ভারতের লোক বাংলায় ছুটে আসছে কারণ বাংলায় পরীক্ষাটা হয়, এবং ঠিকঠাক হয়। আর এরা বলছে উত্তর প্রদেশ, রাজস্থান ইত্যাদি জায়গায় জুমলা সরকার রয়েছে। তবে বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলছেন, বাংলার বাঙালিরা চাকরি পায়নি কারণ তাঁদের মেধা চুরি হয়েছে। এরপরে অন্য রাজ্যে কী হল ওসব নিয়ে ভাবার বাঙালির সময় নেই। বাঙালি ওসব নিয়ে ভাবছে না।












