নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বিক্ষোভ ঘিরে মঙ্গলবার দিনভর উত্তপ্ত রইল রাজধানী। সংসদ চত্বর থেকে নির্বাচন সদন পর্যন্ত মিছিলের পর পুলিশি বাধার মুখে আকাশবাণী ভবনের সামনে ধর্নায় বসেন রাহুল গান্ধী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ কংগ্রেস ও বিরোধী জোটের নেতারা। প্রায় ন’ঘণ্টা ধরে চলা এই কর্মসূচির শেষে রাত ৮টা নাগাদ রাহুল প্রিয়াঙ্কা এবং ডেরেক ও’ব্রায়েন-সহ একাধিক নেতাকে আটক করে পুলিশ। রাত ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিন সকাল ১১টা নাগাদ সংসদের মকরদ্বার থেকে নির্বাচন সদনের উদ্দেশে মিছিল শুরু করেন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রায় ৩০০ সাংসদ। মিছিলে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার পাশাপাশি ছিলেন মল্লিকার্জুন খড়্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মহুয়া মৈত্র ডেরেক ও’ব্রায়েন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অখিলেশ যাদব এবং সুপ্রিয়া সুলে-সহ বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতা। নির্বাচন সদনের কাছে নীতি আয়োগের দফতরের সামনে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকে দেয়। সেখানেই বসে বিক্ষোভ শুরু করেন বিরোধী সাংসদরা। লাউডস্পিকার হাতে ব্যারিকেডের উপরে উঠে পড়েন রাহুল গান্ধী। পরে কয়েকজন সাংসদকে আটক করা হলেও তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর নির্বাচন সদনে যাওয়ার চেষ্টা করে আকাশবাণী ভবনের দিকে এগিয়ে যান রাহুল। সেখানেও পুলিশ বাধা দিলে আকাশবাণী চত্বরের সামনে গাছতলায় বসে ধর্না শুরু করেন তিনি ও প্রিয়াঙ্কা। পরে সেখানে যোগ দেন ডেরেক ও’ব্রায়েন মহুয়া মৈত্র-সহ অন্য নেতারা।
লখনউ যাওয়ার পথে কর্মসূচির খবর পেয়ে মাঝপথ থেকে ফিরে আসেন সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও। আকাশবাণী ভবনের সামনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল অভিযোগ করেন গণতন্ত্র রক্ষার দাবিতেই তাঁরা পথে নেমেছেন। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও তাঁদের বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি প্রায় ৩০০ জন নির্বাচিত সাংসদ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিক সূত্রের দাবি কমিশনের কাছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করার জন্য কোনও সরকারি আবেদন বা পূর্বনির্ধারিত সাক্ষাতের অনুরোধ জানানো হয়নি। রাত ৮টা নাগাদ আকাশবাণী ভবন চত্বরে পৌঁছয় পুলিশের বাস। একে একে রাহুল প্রিয়াঙ্কা ডেরেক-সহ নেতাদের বাসে তোলা হয়।
কংগ্রেসের অভিযোগ রাহুলকে টেনেহিঁচড়ে বাসে তোলা হয়েছে। পরে বাসের জানলা দিয়ে তাঁকে দেখা যায়। এদিন সকালেও ডেরেক ও’ব্রায়েনকে আটক করেছিল পুলিশ। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। দিনভর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে ওঠে। বিরোধীদের অভিযোগ গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরও প্রতিবাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। অন্যদিকে পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য ঘিরে কর্মসূচির বৈধতা এবং নিয়ম মেনে সাক্ষাতের আবেদন করা হয়েছিল কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ফলে মঙ্গলবারের এই বিক্ষোভ শেষ হলেও রাজনৈতিক সংঘাতের আঁচ যে আরও কিছুদিন থাকবে তার ইঙ্গিত মিলেছে।














