একদিকে ডাল লেকের শান্ত জলরাশি, অন্যদিকে জাবারওয়ান পাহাড়ের সুবিশাল প্রান্তর। তার মাঝেই বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে রঙের আশ্চর্য মায়াজাল। সোমবার প্রত্যাশার পারদ চড়িয়ে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হল এশিয়ার বৃহত্তম টিউলিপ বাগান। শ্রীনগরের ‘ইন্দিরা গান্ধি মেমোরিয়াল টিউলিপ গার্ডেন’ এবার সেজেছে প্রায় ১৮ লক্ষ ফুলের সমারোহে। পাহাড়ের ঢালে ৭০টিরও বেশি প্রজাতির টিউলিপের হাসি দেখতে মরসুমের প্রথম দিনেই ভিড় জমিয়েছিলেন উৎসাহী পর্যটকরা।
সাধারণত মার্চের শেষ সপ্তাহে এই বাগানের দরজা খোলে। কিন্তু এবার প্রকৃতির মেজাজ ছিল ভিন্ন। গত কয়েক দশকের মধ্যে উষ্ণতম ফেব্রুয়ারি দেখেছে কাশ্মীর উপত্যকা। অকাল বসন্তের ছোঁয়ায় নির্ধারিত সময়ের অন্তত ১০ দিন আগেই টিউলিপের কুঁড়ি চওড়া হাসি হাসতে শুরু করেছে। আবহাওয়া ও ফুলের প্রস্ফুটন বিবেচনা করে তাই দ্রুত বাগান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। এদিন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা আনুষ্ঠানিকভাবে এই রঙিন উৎসবের সূচনা করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রিসভার সদস্য ও বিধায়করাও।
২০০৮ সালে পথ চলা শুরু করা এই বাগান আজ কাশ্মীরের পর্যটন মানচিত্রে অন্যতম সেরা আকর্ষণ। বছর তিনেক আগেই ‘ওয়ার্ল্ড বুক অফ রেকর্ডসে’ নাম তুলেছে জাবারওয়ান পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত এই উদ্যান। এবার উদ্যানের জৌলুস বাড়াতে বিশেষ নজর দিয়েছে ফ্লোরিকালচার বিভাগ। ফুলের ঘনত্ব বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে অনেকটা। ফলে মাইলের পর মাইল যেন শুধু রঙের কার্পেট পাতা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডাল লেকের তীরের এই বাগানে এক টুকরো উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। পর্যটকদের মনোরঞ্জনে আয়োজন করা হয়েছিল বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা বলেন, পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িত যারা, তাঁদের জন্য এটা একটা নতুন বার্তা। তাঁদের অত্যন্ত কঠিন একটি সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটছে ৷ আমরা আশা করি, পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে ৷ যাতে দেশের অন্যান্য প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে এসে জম্মু ও কাশ্মীরের অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, সময়ের আগে বাগান খুলে যাওয়ায় এবার পর্যটকদের ভিড় বিগত সব রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে। বসন্তের এই অপরূপ রূপ উপভোগ করতে মুখিয়ে আছেন ভূস্বর্গের মানুষ ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা। ছবি পিটিআই ।














