আসন্ন গঙ্গাসাগর মেলায় পুণ্যার্থীদের ভিড় সামলাতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল পূর্ব রেল। এবার শিয়ালদহ ডিভিশন থেকে রেকর্ড সংখ্যক ১২৬টি স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতবারের তুলনায় ট্রেনের সংখ্যা এবার কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল রেল কর্তৃপক্ষ। গত বছর যেখানে ৭২টি বিশেষ ট্রেন চালানো হয়েছিল, সেখানে এবার সেই সংখ্যাটা ১২০-র গণ্ডি পার করে গিয়েছে।
নির্বিঘ্নে এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতেই এই অভিনব উদ্যোগ। গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন শিয়ালদহ ডিভিশনের সিনিয়র ডিভিশনাল অপারেশনস ম্যানেজার পঙ্কজ যাদব। ওই বৈঠকে কন্ট্রোল অফিসকে রেলের ‘মেরুদণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। পুণ্যার্থীদের সুরক্ষায় এবং ট্রেন চলাচলে বিন্দুমাত্র গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে রেল প্রশাসন।
মেলার দিনগুলিতে ট্রেনের সময়সূচি বজায় রাখা এবং ভিড় সামলানোই এখন রেলের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করতে শিয়ালদহ ডিভিশনের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিতে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। ট্রেন চলাচলের রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণের জন্য প্রতিটি বড় স্টেশনে অফিসার এবং সুপারভাইজারদের মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কন্ট্রোলারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে যে কোনও যান্ত্রিক বা লজিস্টিক সমস্যা তৈরি হওয়ার আগেই তা চিহ্নিত করে সমাধান করা হয়।
মূলত দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা এবং কাকদ্বীপ শাখায় ট্রেনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ানো হচ্ছে। মেলার দিনগুলিতে লক্ষ লক্ষ মানুষের জমায়েত হয় শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখায়। সেই জনজোয়ার সামাল দিতেই এই বিশাল সংখ্যক ট্রেনের পরিকল্পনা। রেলের এই উদ্যোগের ফলে তীর্থযাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখতে কন্ট্রোল অফিসকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নিয়মিত রিপোর্ট পেশ করার জন্য। যে কোনও জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকছে বিশেষ টাস্ক ফোর্স। ফাইল ফটো ।












