Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

অনিল অম্বানী মামলায় ইডি-সিবিআইকে ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের

অনিল অম্বানী মামলায় ইডি-সিবিআইকে ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের

৪২ হাজার কোটি টাকার ব্যাঙ্ক জালিয়াতির অভিযোগে ধৃতরাষ্ট্রের দশায় কেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি? অনিল অম্বানী এবং তাঁর সংস্থা ‘রিলায়্যান্স অনিল ধীরুভাই অম্বানী গোষ্ঠী’ (এডিএজি)-র বিরুদ্ধে তদন্তের কচ্ছপ গতি দেখে কার্যত বেনজির ক্ষোভ উগরে দিল সুপ্রিম কোর্ট। সিবিআই এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র ভূমিকা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়েছে, তদন্তে এই অস্বাভাবিক বিলম্বের কোনও ‘যুক্তিগ্রাহ্য ব্যাখ্যা নেই’। বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলিকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে নতুন স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

শিল্পপতি অনিল অম্বানীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া ঋণের টাকা অন্যত্র সরিয়ে ফেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই আর্থিক অনিয়মের মামলায় তদন্তের গতিপ্রকৃতি জানতে চেয়ে আগেই রিপোর্ট তলব করেছিল আদালত। বুধবার সেই রিপোর্ট দেখার পর ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিচারপতিদের বেঞ্চ। কেন্দ্রের দুই দুঁদে তদন্তকারী সংস্থাকে কার্যত কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে আদালত প্রশ্ন তোলে, ‘তদন্তে কেন দেরি হচ্ছে!’ বিচারপতিদের মতে, যে গতিতে কাজ এগোচ্ছে তাতে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। দ্রুত তদন্ত শেষ করার কড়া বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি অনিলের সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য ইডি-কে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।

প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সচিব ইএএস শর্মার করা জনস্বার্থ মামলাকে কেন্দ্র করেই এই আইনি লড়াই। তাঁর আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ আদালতে আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, তদন্তে দেরি হওয়ার সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত শিল্পপতি বিজয় মাল্য বা নীরব মোদীর মতো দেশ ছেড়ে পালাতে পারেন। তবে অনিলের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী মুকুল রোহতগি আদালতকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি জানান, অনিল অম্বানী দেশেই থাকবেন এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া বিদেশযাত্রা করবেন না। যদিও অভিযোগকারীর দাবি, ২০০৭-০৮ সাল থেকে জালিয়াতি শুরু হলেও এফআইআর দায়ের করতে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময় লেগে গেল কেন, সেই প্রশ্নও এড়িয়ে যাওয়ার মতো নয়।

উল্লেখ্য, ইতিপূর্বেই একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক অনিল অম্বানীর বিভিন্ন সংস্থার অ্যাকাউন্টকে ‘প্রতারক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। গত মাসেই সুপ্রিম কোর্ট অনিল ও তাঁর গোষ্ঠীকে নোটিস পাঠিয়ে জানিয়ে দিয়েছিল, ‘এটাই শেষ সুযোগ’। ১০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট চেয়েও সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বুধবারের কড়া অবস্থান থেকে এটা স্পষ্ট যে, অভিযুক্তের প্রভাবশালী পরিচয় তদন্তের পথে বাধা হোক, তা কোনোভাবেই চাইছে না শীর্ষ আদালত। চার সপ্তাহ পর পরবর্তী রিপোর্টে সিবিআই ও ইডি কী তথ্য পেশ করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।

READ MORE.....