Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

অর্ণবের দাপট আর ধসের আশঙ্কায় পাহাড়ি পর্যটনে ফের মন্দার মেঘ!

অর্ণবের দাপট আর ধসের আশঙ্কায় পাহাড়ি পর্যটনে ফের মন্দার মেঘ!

নেপালের বিপর্যয়ের ঝাপটা লেগেছিল, এবার ছোবল অর্ণবের । ঘূর্ণিঝড় অর্ণব যতই শক্তি সঞ্চয় করে অন্ধ্র উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ততই বৃষ্টির আশঙ্কা বাড়ছে বাংলাতেও। পরোক্ষ প্রভাবেও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ সহ উপকূল এলাকায় ঝড়বৃষ্টির বিশেষ সতর্কতা জারি হয়েছে। উত্তরবঙ্গেও বৃহস্পতি ও শুক্রবার ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ওই পূর্বাভাসে পাহাড়ি এলাকায় ধসের আশঙ্কা এবং সতর্কতার কথা বলেছে আবহাওয়া দপ্তর।

 

আর তাতেই পাহাড়ি পর্যটনে নতুন করে কালো মেঘ জমাট বাঁধতে শুরু করেছে। পাহাড়ে বেড়ানোর ক্ষেত্রে সতর্কতার পরামর্শ দিচ্ছে প্রশাসনের পাশাপাশি পর্যটন ব্যবসায়ীরাও। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় হয়ে উঠছে আতঙ্ক, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পর্যটনে। হেমন্তের স্বচ্ছ নীলাকাশে বাতাসের শিরশিরানি থাকলেও বা ‘ঘুমন্ত বুদ্ধ’ কাঞ্চনজঙ্ঘা পাহাড়ের মাথা নতুন করে জেগে উঠলেও পাহাড়ি পর্যটন সেভাবে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছে না। নেপালের বিপর্যয়, বালাসনের হিউমপাইপের সেতু উড়ে যাওয়া এবং ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক সহ একাধিক জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে ধস নামায় তার বড় প্রভাব পড়েছে পুজো পর্যটনে।

 

গ্যাংটক থেকে দার্জিলিং, পাহাড়ে চেনা ভিড়টা ছিল না পুজোর দিনগুলিতে। লক্ষ্মীপুজো কাটিয়ে দীপাবলিকে কেন্দ্র করে যখন আশার আলো দেখতে চাইছিলেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা, তখন অর্ণবের পরোক্ষ প্রভাবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা তাঁদের হতাশ করে তুলছে। মূলত ধসের আশঙ্কায় অনেকেই যে পাহাড়-পরিকল্পনা বাতিল করে অন্যত্র বেড়াতে চলে যাবেন, বুঝতে পারছেন পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসায়ীরা। কালিম্পং হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিদ্ধান্ত সুদ বলছেন, ‘প্রায় সময় ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধ থাকায় কালিম্পংয়ের পর্যটনে বড় প্রভাব পড়েছে। কেননা, বেড়াতে এসে রাস্তায় আটকে থাকতে চান না পর্যটকরা।’

 

উল্লেখ্য, ধস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক মেরামতে হাত লাগিয়েছে এনএইচআইডিসিএল। যে কারণে মঙ্গলবার থেকে আগামী ৫ নভেম্বর পর্যন্ত প্রত্যেক দিন রাত ৯টা থেকে পরের দিন সকাল ৬টা পর্যন্ত যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অর্ণবের প্রভাবে বৃহস্পতি এবং শুক্রবার হিমালয় সংলগ্ন উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস আবহাওয়া দপ্তর দিলেও, ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে আগামী সোম ও মঙ্গলবার। কেননা, ওই সময় এই অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণ জলীয় বাষ্পের জোগান ঘটতে পারে। ফলে পাহাড়ি এলাকা থেকে এখনই ধসের আশঙ্কা দূর হচ্ছে না। তবে দুর্যোগ মোকাবিলায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।

 

ইতিমধ্যে প্রশাসনের তরফে বৈঠক করে গুজব না ছড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে যাতে পর্যটকরা পাহাড়ে বেড়াতে আসেন, সেই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সিআইআই ট্যুরিজম চেয়ার সম্রাট সান্যাল বলেন, ‘বৃষ্টির পূর্বাভাস থেকে রাস্তার পরিস্থিতি; সমস্ত তথ্যই আমাদের তরফে প্রতিদিন তুলে ধরা হচ্ছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়ে পর্যটকদের আসার কথা বলছি আমরাও।’

READ MORE.....