Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

আরাঘচির ফোন জয়শঙ্করকে, উত্তাল ইরানে নাগরিকদের ফেরাতে মরিয়া দিল্লি

আরাঘচির ফোন জয়শঙ্করকে, উত্তাল ইরানে নাগরিকদের ফেরাতে মরিয়া দিল্লি

পশ্চিম এশিয়ায় ঘনিয়ে আসা যুদ্ধের মেঘ আর ইরানের অভ্যন্তরীণ গণবিক্ষোভের রক্তক্ষয়ী আবহে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে ফোন করলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তেহরানের বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। একদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি আর অন্যদিকে খামেনেই সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ— এই জোড়া ফলায় বিদ্ধ ইরানের পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই প্রেক্ষাপটে আরাঘচির এই ফোনকল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। আলোচনার নির্যাস জানিয়ে জয়শঙ্কর সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচির কাছ থেকে একটি ফোন পেয়েছি। আমরা ইরান এবং তার আশেপাশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি।’

ইরানের অন্দরে আগুন জ্বলছে। মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন শাসকের গদি উল্টে দেওয়ার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েকশিয়ানের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছেন সাধারণ মানুষ। ৩১টি প্রদেশেই ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ। সরকারি বাহিনীর গুলিতে নিহতের সংখ্যা ইতিমধ্য়েই তিন হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে বলে খবর। এই পরিস্থিতিতে সে দেশে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে বিন্দুমাত্র ঝুঁকি নিতে নারাজ নয়াদিল্লি। বুধবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল কড়া সতর্কবার্তা জারি করেছেন। সাফ জানানো হয়েছে, আপাতত কোনও ভারতীয় যেন ইরানে না যান। এর আগে ৫ জানুয়ারি একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। বুধবার ফের বলা হয়েছে, ‘ইরানের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি দেখে ভারতীয় নাগরিকদের আবার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, এ বিষয়ে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি না দেওয়া পর্যন্ত কেউ ওই দেশে যাবেন না। বিদেশ মন্ত্রকের গত ৫ জানুয়ারির উপদেশাবলিও দেখতে বলা হচ্ছে।’

ইরানের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ঘৃতাহুতি দিচ্ছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই মুহূর্তে খামেনেই প্রশাসনের সঙ্গে কোনও রকম আলোচনায় বসার প্রশ্নই ওঠে না। বরং তিনি বিক্ষোভকারীদের পিছু না হটার সাহস দিচ্ছেন। ট্রাম্পের সাফ কথা, আন্দোলনকারীদের সব রকম সাহায্য করবে আমেরিকা। তাঁর এই হুঁশিয়ারির পর থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছে, তবে কি ফের ইরানে সামরিক অভিযান চালাতে চলেছে পেন্টাগন? ট্রাম্পের এই কড়া অবস্থান এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের মাঝেই নয়াদিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে তেহরান। ভারতের বিদেশমন্ত্রীর কাছে আরাঘচি কী বার্তা পৌঁছে দিলেন, তা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে।

READ MORE.....