শুধুমাত্র লক্ষ-লক্ষ বেআইনি বা অনুমোদনহীন টোটো এবং ই-রিক্সার জন্য কমে যাচ্ছে কলকাতা সহ বাংলার অধিকাংশ ছোট-বড় মাঝারি শহরের রাস্তার গতি। বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে তৃণমূলের ছোট-বড় নেতাদের দাক্ষিণ্যে লক্ষ-লক্ষ টোটো এবং ই-রিক্সা নেমে পড়েছিল শহরের রাস্তায়। সরকারি কোনো অনুমোদন না থাকলেও তারাই দখল করে নিয়েছে রাস্তার একটা বড় অংশ। কলকাতা হাইকোর্ট, রাজ্য সড়ক এবং জাতীয় সড়কের পাশাপাশি রাজ্যের প্রধান রাস্তাগুলিতে টোটো এবং ই রিক্সা চলাচলের উপরের নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও বিগত তৃণমূল সরকার তা কার্যকর করেনি।
কিন্তু এবারে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার কলকাতা শহর এবং রাজ্যের রাস্তাগুলির যানবাহনের গতি বাড়ানোর জন্য কঠোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করার পথে হাঁটতে চাইছে। এবার একেবারে নিয়ম করে জাতীয় সড়ক, রাজ্য সড়ক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অনুমোদনহীন ই-রিকশা বা টোটো চলাচল বন্ধ করার জন্য পুলিশকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য পরিবহণ দফতর। হাইওয়েতে এখন টোটোর নো এন্ট্রি! জাতীয়-রাজ্য সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় টোটো-ই রিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে রাজ্যের পরিবহণ দফতরের তরফে। পুলিশকে নির্দেশও দিয়েছে পরিবহণ দফতর।
নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সপ্তাহখানেক আগে। এবারে সেই নির্দেশ বাস্তবায়নে রাজ্য পুলিশকে কড়া হতে বলল পরিবহন দফতর। গত ৭ অগাস্ট রাজ্য পুলিশের ডিজিকে চিঠি দিয়েছিলেন পরিবহন দফতরের প্রধান সচিব রবিইন্দর সিং। সেই চিঠিতে জানানো হয়েছিল, জাতীয় সড়ক, রাজ্য সড়ক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অনুমোদনহীন ই-রিকশা বা টোটোর চলাচল বন্ধ করতে হবে পুলিশকে। সংশ্লিষ্ট চিঠিতে বলা ছিল, কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রকের জিএস আর ৭০৯(ই) নির্দেশিকা অনুযায়ী ই-রিকশা মূলত ‘লাস্ট-মাইল কানেক্টিভিটি’র জন্য নির্ধারিত।
রবিবার খড়্গপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে টোটো নিয়ে সরকারি নির্দেশিকার বিষয়ে নিজস্ব প্রতিক্রিয়া জানান রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ৷ তিনি বলেন, ‘আমিও বলেছি, আমাদের জেলার ডিএম, এসপি-দের যাতে টোটো হাইওয়েতে না যায়। টোটোর জন্য বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে। বহু জায়গায় রাস্তা খারাপ বলে টোটো নিজেই উল্টে যাচ্ছে। সেফ নয় গাড়ি।’ দিলীপ ঘোষ জানান, ‘সেজন্য হাইওয়েতে যদি টোটো চলে তাহলে যে কোনও সময় অ্যাক্সিডেন্ট হতে পারে। বহু জায়গায় এটা হচ্ছে, এটা হওয়া উচিত নয় এটা বেআইনি। টোটো, সাইকেল যদি হাইওয়েতে চলতে থাকে, তাহলে গাড়ি চলবে কোথায়।’














