Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

আলাপনের আর্জি খারিজ কোর্টে বহাল রইল মামলা স্থানান্তরের রায়

আলাপনের আর্জি খারিজ কোর্টে বহাল রইল মামলা স্থানান্তরের রায়

আইনি লড়াইয়ে ফের বড়সড় ধাক্কা খেলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মামলা দিল্লি স্থানান্তরের রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি বৃহস্পতিবার খারিজ করে দিল দিল্লি হাই কোর্ট। এর ফলে প্রাক্তন এই আমলার বিরুদ্ধে চলা শৃঙ্খলামূলক পদক্ষেপ সংক্রান্ত মামলার শুনানি এবার রাজধানীর সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনালেই (ক্যাট) হবে।

 

 

বিচারপতি সি হরি শঙ্কর এবং বিচারপতি জ্যোতি সিংহের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা রিভিউ পিটিশনটিতে কোনও সারবত্তা নেই। এই রায়ের ফলে দিল্লির কেন্দ্রীয় বেঞ্চে প্রাক্তন মুখ্যসচিবের শুনানি চলার পথে আর কোনও বাধা রইল না। আদালত এদিন সাফ জানিয়ে দেয়, ২০২২ সালের ৭ মার্চ দিল্লি হাই কোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তাতে কোনও আইনি ত্রুটি নেই। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ডি এন পটেল ও বিচারপতি জ্যোতি সিংহের বেঞ্চ আগেই বলেছিল, মামলা স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত আইনের গণ্ডির মধ্যেই নেওয়া হয়েছে।

 

 

যেহেতু ঘটনার মূল কারণসূত্র বা ‘কজ অব অ্যাকশন’ দিল্লিতেই সীমাবদ্ধ, তাই কলকাতা থেকে দিল্লিতে মামলা সরাতে কোনও আইনি বাধা নেই। বৃহস্পতিবার ডিভিশন বেঞ্চ সেই যুক্তিই বহাল রাখল। আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর্জি খারিজ করে আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, ‘রিভিউ পিটিশনটির কোনও মেরিট না থাকায় তা খারিজ করা হল।’ প্রাক্তন মুখ্যসচিব তাঁর আবেদনে দাবি করেছিলেন, আগের শুনানিতে তাঁকে নিজের বক্তব্য পেশের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়নি। রায়দান স্থগিত করার আগে তাঁর কথা পূর্ণাঙ্গভাবে শোনা হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন।

 

 

তবে দিল্লি হাই কোর্ট সেই যুক্তিকে ধোপে টিকতে দেয়নি। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আগের রায়ে এমন কোনও আইনগত ভুল বা বিচ্যুতি নেই যা পুনর্বিবেচনার ভিত্তি হতে পারে। ফলে পুরনো রায় পরিবর্তনের কোনও অবকাশ দেখেনি বেঞ্চ। ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালের ২৮ মে। কলাইকুন্ডা বায়ুসেনা ঘাঁটিতে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’-এর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পর্যালোচনাসভায় আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতি ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যসচিব হওয়া সত্ত্বেও তিনি কেন সেই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে কেন্দ্র। এর পরেই তাঁর বিরুদ্ধে শুরু হয় কড়া শৃঙ্খলামূলক পদক্ষেপ। কেন্দ্রীয় সরকারের সেই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে আলাপন প্রথমে ক্যাটের কলকাতা বেঞ্চে দ্বারস্থ হন।

 

 

পালটা হিসেবে কেন্দ্র মামলাটি দিল্লির প্রধান বেঞ্চে সরানোর আবেদন করে। ২০২১ সালের ২২ অক্টোবর সেই আবেদন মঞ্জুর করে ক্যাট।পরবর্তীকালে কলকাতা হাই কোর্ট ওই নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিলেও ২০২২ সালের জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট তা বাতিল করে দেয়। শীর্ষ আদালত আলাপনকে দিল্লি হাই কোর্টে আবেদন করার স্বাধীনতা দিয়েছিল। সেই সূত্রেই মামলা চললেও শেষমেশ রাজধানীর আদালতেও জয় পেল না রাজ্যের প্রাক্তন শীর্ষ আমলা। যদিও নবান্নের নির্দেশে তিনি কেন্দ্রীয় ডাকে সাড়া দেননি এবং ২০২১ সালের ৩১ মে অবসর নেন, তবুও তাঁর পিছু ছাড়ছে না আইনি জট। এই নির্দেশের ফলে দিল্লির ক্যাটে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে চলা শৃঙ্খলামূলক প্রক্রিয়া আরও গতি পাবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ছবি— এক্স ।

READ MORE.....