এসআইআর ফর্ম জমা দেওয়ার পরেও ইচ্ছাকৃতভাবে প্রায় ১৮ জন ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ বিএলও সুব্রত দাসের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হতেই তীব্র ক্ষোভ সামসেরগঞ্জ বিধানসভার ১১০ নম্বর বুথে। তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টি জানতে চাওয়ায় ভোটারকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে বিএলও সুব্রত দাসের বিরুদ্ধে।
ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য এবং আতঙ্ক ছড়িয়েছে সামসেরগঞ্জ বিধানসভার জয়কৃষ্ণপুর দাসপাড়া গ্রামে। তালিকায় নাম না আসায় কয়েকজন ভোটার রাতের অন্ধকারে তার বাড়িতে চড়াও হয়ে হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিএলও। অভিযোগ, ওই বুথে একাধিকবার ভোট দিয়েছেন অনেক মহিলা। তাদেরও নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
শুধু তাই নয়, কারো দুমাস আবার কারো তিনমাস আগে বিয়ে হয়েছে তাঁরা রীতিমতো ইনুমারেশন ফর্ম জমা দিলেও তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। মাগফুরা খাতুন নামে এক ভোটারের অভিযোগ, সাত বছর আগে বিয়ে হয়ে জয়কৃষ্ণপুর দাসপাড়া গ্রামে সংসার করছেন। ভোটার লিস্টে দু বছর আগেই নাম উঠেছে। শ্বশুর বাড়িতে একবার ভোটও দিয়েছেন। মায়ের বাড়ি চাচন্ড। নভেম্বর মাসে রীতিমত ফরম ফিলাপ করে বিএলওকে জমা দিয়েছেন। কিন্তু লিস্ট প্রকাশ হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে স্বামী এবং শ্বশুর বাড়ির লোকজনের নাম থাকলেও তালিকায় নাম নেই ওই মহিলার। তাতেই আতঙ্কিত হয়ে কার্যত ঘুম ছুটেছে মাগফুরার।
একই অভিযোগ চাঁদ কুমার দাস, উমা সরকার, সুস্মিতা দাস, মিতা দাস, মধুমিতা দাস, সনোকাঁ দাস, সম্মানী দাসদের। একসঙ্গে ১১০ নম্বর বুথে প্রায় ১৮ জনের নাম বাদ দেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আতঙ্কিত হয়েছেন স্থানীয়রা। বিএলও এর কাজের খামখেয়ালীপনা নিয়ে ক্ষুব্ধ ভোটাররা। এদিকে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়তেই মঙ্গলবার রাতে বিএলও’র বাড়ি যান চাদকুমার দাস। সঙ্গে ছিলেন তার শ্যালক। অভিযোগ, জিজ্ঞেস করতেই বিএলও এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা তাদের মারধর করে।
এমনকি ইট পাটকেল দিয়েও মারধর করা হয়েছে। অন্যদিকে ভোটারদের অভিযোগ নিয়ে বিএলও সুব্রত দাসের পাল্টা দাবি, রাতের অন্ধকারে তার বাড়িতে চড়াও হয়েছে ভোটাররা। ভোটার লিষ্ট সংক্রান্ত যা করেছেন তা ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের নির্দেশেই করেছেন বলেই দাবি তার। যদিও কিছু মিসটেক হয়ে থাকলে তা সংশোধন করে নেওয়া হবে বলেই আশ্বস্ত করেছেন বিএলও সুব্রত দাস। এদিকে পুরো বিষয়টি নিয়ে বিএলওর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে বিএলও’র বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভোটার লিষ্ট থেকে বাদ পড়া ভোটাররা।
মারধর কাণ্ডে বিএলও এবং তার সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বঞ্চিত ভোটার চাদকুমার দাস। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে সামসেরগঞ্জ থানার পুলিশের পক্ষ থেকে। সাধারণ মানুষের দাবি, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এসআইআর ফর্ম জমা দিলেই তালিকায় নাম উঠবে। কিন্তু কি করে একজন বিএলও এভাবে ফর্ম রিসিভ করার পরেও সিফটেড কিংবা তালিকা থেকে বাদ দিতে পারেন? বিএলও’র এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ।














