রাঁচিতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর-এর তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়ার ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিল না সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার শীর্ষ আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে ঝাড়খণ্ড সরকার বড়সড় আইনি ধাক্কার মুখে পড়ল। বিচারপতি এম.এম. সুন্দরেশ এবং বিচারপতি এন. কোটিশ্বর সিং-এর একটি বেঞ্চ রাজ্য সরকারের আবেদনটি খারিজ করে দেয়। এর ফলে রাঁচির ওই মামলার তদন্ত এখন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বা সিবিআই-ই চালিয়ে যাবে।
এই বিতর্কের সূত্রপাত রাজ্য পানীয় জল ও স্যানিটেশন বিভাগের কর্মী সন্তোষ কুমারের একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে। আর্থিক তছরুপের একটি মামলায় অভিযুক্ত সন্তোষ অভিযোগ করেছিলেন যে, গত ১২ জানুয়ারি রাঁচিতে ইডি অফিসে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাকে শারীরিক ও মানসিক হেনস্থা করা হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে রাঁচির এয়ারপোর্ট থানায় ইডি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। এরপর রাঁচি পুলিশ ইডি অফিসে অভিযান চালালে সংঘাত চরম আকার নেয়। কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে বেআইনি হস্তক্ষেপ এবং অসৎ উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় ইডি।
গত ১১ মার্চ ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার দ্বিবেদী মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে পুরো বিষয়টি সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে রাজ্য পুলিশের তদন্তে স্থগিতাদেশ দিয়ে ইডি অফিসের নিরাপত্তার দায়িত্ব আধাসামরিক বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়। ঝাড়খণ্ড সরকার এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল। রাজ্যের পক্ষ থেকে সিনিয়র আইনজীবী মীনাক্ষী আরোরা তদন্তে স্থগিতাদেশের পক্ষে সওয়াল করলেও শীর্ষ আদালত কোনো স্বস্তি দিতে অস্বীকার করে। সুপ্রিম কোর্টের এই সবুজ সংকেতের পর এখন রাঁচির ওই ঘটনায় ইডি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের পথ পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে গেল।














