দুর্নীতি বন্ধ করা এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ওপরে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ইস্যুকে সামনে রেখে সরকারের বিরোধী আন্দোলনের জেরে পতন ঘটেছে নেপালের গণতান্ত্রিক সরকারের। নেপালের যাবতীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দায়িত্ব হাতে তুলে নিয়েছে সেনাবাহিনী। স্বাভাবিকভাবেই বাংলার একেবারে সীমান্ত লাগোয়া প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপালের রাজনৈতিক এবং সামাজিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় সেই উত্তেজনার উত্তাপ পৌঁছেছে সীমান্তবর্তী উত্তরবঙ্গে। তাই তিনদিনের উত্তরবঙ্গ সফরে মঙ্গলবার শিলিগুড়িতে পৌঁছালেও রাতে নিশ্চিন্তে গেস্ট হাউসে বসে থাকলেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এমনিতেই নেপালের আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে কন্যাশ্রী গেস্ট হাউসের দূরত্ব অত্যন্ত কম। তাই ইন্টারনেটের উপরে নিয়ন্ত্রণ থাকায় সেখান থেকে কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে রাতেই সফর সঙ্গী মন্ত্রী এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে উত্তরকন্যায় পৌঁছে যান মমতা। তাঁর সঙ্গেই ছিলেন রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, জেলাশাসক এবং শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার। আগেই মমতার নির্দেশে সীমান্তবর্তী পানি ট্যাংকি এলাকায় গিয়ে সীমান্তে মোতায়েন এসএসবির কমান্ডারের সঙ্গে বৈঠক করেন আইজি উত্তরবঙ্গ রাজেশ কুমার যাদব।
অন্যদিকে রাতেই উত্তরকন্যায় নিজের চেম্বারে বসে রাজ্যের বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তর এবং রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে গোয়েন্দাদের বাড়তি নজরদারি চালানোর পাশাপাশি সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। অফিসে বসেই রাতভর চলল মনিটরিং। উত্তরকন্যায় সারারাত জেগে নেপালের পরিস্থিতির উপরে মুখ্যমন্ত্রীর নজরদারি প্রসঙ্গে মমতার সফর সঙ্গী অরূপ বিশ্বাস জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নন, তিনি সর্বভারতীয় একজন নেত্রী। ইন্টারনেট কাজ না করায় কোনও ভাবেই কোনও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না। তাই বাধ্য হয়ে উত্তরকন্যায় নিজের ঘরে এসে কাজ করেছেন।
আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে এমন একটি ঘটনা ঘটেছে, তাতে মুখ্যমন্ত্রী খুবই উদ্বিগ্ন। তাই উত্তরকন্যায় চলে আসেন। নেপালে আটকে থাকা বাংলার বাসিন্দাদের অভয় দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার জলপাইগুড়ি থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দু’-এক দিনের মধ্যে সকলকেই রাজ্য উদ্যোগ নিয়ে ফিরিয়ে আনবে। তাড়াহুড়ো করে যেন কেউ নিজের বিপদ না ডেকে আনেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রতিবেশী দেশে সমস্যা হচ্ছে। আমি গতকাল (মঙ্গলবার) সারা রাত উত্তরকন্যায় বসে পাহারা দিয়েছি। আপনারা নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারেন, আমরা দেখে নিতে পারি। সেই সঙ্গে মমতা বলেন, যেই শুনেছি নেপালে প্রবলেম, ছুটে এসেছি। আশা করছি, শান্তি ফিরে আসবে। মনিটরিং করছি। আমি জানি, অনেকে নেপালে বেড়াতে গিয়েছেন। আমি বলব, রাজ্য সরকারের তরফে আমরা এ বিষয়টা ‘টেক আপ’ করেছি। দু’-একটা দিন ধৈর্য ধরুন।
আস্তে আস্তে আপনাদের ফিরিয়ে নিয়ে আসব। এখনই তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে কোনও বিপদের মুখে পড়বেন না। চিন্তা করবেন না। একটু শান্তি ফেরাতে দিন। ওরা শান্তি ফেরাক, আমরা প্রতিবেশী দেশ, খুশি হব। প্রসঙ্গত, উত্তরবঙ্গে রওনা হওয়ার আগে কলকাতায় দাঁড়িয়ে নেপালের অশান্তি নিয়ে মমতা বলেছিলেন, নেপাল আমার দেশ নয়। এটা বিদেশি রাষ্ট্র। এই ব্যাপারে কথা বলতে পারি না। নেপাল, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশকে ভালোবাসি। কেন্দ্রীয় সরকার আমাদের কিছু বললে বলতে পারি। এটা কেন্দ্র দেখছে। আমার অনুরোধ থাকছে, সীমান্ত এলাকায় নজর রাখুন সকলে। কোনও গন্ডগোল জড়িয়ে পড়বেন না। ওখানে শান্তি ফিরে আসুক। আমারা মনে করি, পাড়া-প্রতিবেশী ভালো থাকলে আমরা ভালো থাকব।













