বিধানসভা অধিবেশন ও তাঁর দপ্তরে যাওয়ার সময়টুকু ছাড়া সারা বছরই মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখেন স্বপন দেবনাথ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বর্ষিয়ান এই নেতা ও মন্ত্রী এবার তাঁর আসন পূর্বস্থলী দক্ষিণ থেকে পঞ্চম বারের জন্য ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন। বাম আমল থেকে এই এলাকায় টানা জয়ী হয়ে আসছেন তিনি।
রাজ্য সরকারের উন্নয়নকে সামনে রেখে তিনি ভোটের প্রচারে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এলাকার মানুষ তাঁকে চেনেন, আবার তিনিও প্রায় সকলকেই চেনেন। তাই প্রচারে আলাদা জোরালো আবেদন না থাকলেও মূলত শুভেচ্ছা বিনিময়কেই হাতিয়ার করেছেন তিনি। সবজি বাজার, ফলের বাজার থেকে শুরু করে প্রতিদিনের কেনাকাটার জায়গাগুলিতে তিনি উপস্থিত থাকছেন। অনেক সময় ভোটারদের গলায় নিজের মালাও পরিয়ে দিচ্ছেন।
প্রার্থী তালিকা ও ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার অনেক আগেই তিনি পুরোদমে জনসংযোগ শুরু করে দেন। প্রার্থী ঘোষণার পরও নিজের বিধানসভা এলাকায় একের পর এক কর্মী বৈঠক করেছেন তিনি। সন্ধ্যার পর আলো না থাকায় কোথাও লাইটের ব্যবস্থা করে চাটাই বৈঠক, আবার কোথাও চায়ের আড্ডায় মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। মহিলা তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গেও আলাদা করে বৈঠক করে তাঁদের মতামত শোনেন তিনি। কর্মীদের দাবি, এই ধরনের কর্মসূচি তিনি সারা বছরই চালিয়ে যান।
চাষের জমিতে গিয়ে খেতমজুরদের সঙ্গে দেখা করেন, তাদের সঙ্গে বসে খাবারও ভাগ করে নেন। সমুদ্রগড় এলাকার বড় কিষানমান্ডিতেও তাঁকে দেখা যায় দীর্ঘ সময় ধরে চাষি ও সবজি বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলতে। সেখানে একটি সবজি সংরক্ষণ কেন্দ্র গড়ার কথাও জানান তিনি।
২০০৬ সাল থেকে এই আসনে জয়ী হয়ে আসছেন স্বপন দেবনাথ। এবারও তিনি শতভাগ জয়ের আশাবাদী। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের কারণে বিরোধীরা জনসমর্থন আদায় করতে পারবে না। এলাকায় একাধিক প্রকল্প ও রাস্তার কাজ হয়েছে বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি দলের কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দেন, ঘরে বসে না থেকে উন্নয়নের কথা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে এবং অপপ্রচারের জবাব দিতে সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে কথা বলতে হবে।















