কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। ছবিতে দেখা যায়, তিনি একটি মঞ্চে ভাষণ দিচ্ছেন এবং মঞ্চের নিচে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছবি রাখা হয়েছে।এই ছবি নিয়ে শুক্রবার রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু তোপ দাগেন এবং সমালোচনা করেন।
শুক্রবার সুকান্ত মজুমদার দুর্গাপুরে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সেই অভিযোগের জবাব দিয়ে তিনি বলেন,‘ওরা বাজে কথা বলছে। ব্রাত্য বসু কী? ব্রাত্য বসুর জীবনের স্বপ্ন ছিল লাল বাতির গাড়িতে বসে মদ খাবে। যে লোকের স্বপ্ন জীবনে এরকম থাকে, তাঁকে নিয়ে কথা বলব?’ সুকান্ত আরও তোপ দাগেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের প্রতি। তিনি বলেন, ‘তার পাশে একটা চোর ছিল। দ্বাদশ শ্রেণী পাশ কুণাল ঘোষ। তাঁর ছেলে তো কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে। যাদবপুরে ভর্তি করেননি কেন? পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করেননি কেন? এদের কোনও কথার উত্তর দিতে হয় না।’
মালদার চাঁচল কলেজে সম্প্রতি তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বিক্ষোভের সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ছবি পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনায় তৃণমূল দল সমালোচনার মুখে পড়েছিল। ব্রাত্য বসু সাংবাদিকদের জানান, বিজেপি বরাবরই বাংলা বা বাঙালি মনীষীকে অবমূল্যায়ন করতে চায়। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন আগে বঙ্কিমের একটি লেখায় চঞ্চল কুমারী চরিত্রকে দেখানো হয়েছে। এবার বিজেপির নতুন চঞ্চল কুমার এসে আবার বঙ্কিমকেই লাথি মারবে।’
দুর্গাপুরে ব্রাত্য বসু ও কুনাল ঘোষ বিষয়ক প্রশ্ন ছাড়াও সুকান্তকে জিজ্ঞাসা করা হয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীর রহস্যমৃত্যু এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে। সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের রাজ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অত্যন্ত চিন্তার বিষয়। সেখানে পর পর এরকম ঘটনা ঘটছে, যা যথেষ্ট চিন্তার। ছাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার, পাশে মদের বোতল পাওয়া গেছে। যথেষ্ট চিন্তার বিষয়। আমি নিজে একজন মাস্টারমশাই।’













