এসএসসি ছাব্বিশ হাজার চাকরি বাতিলের রায়ে কোনও হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট। রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি সরাসরি খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। নতুন করে শুরু হওয়া নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করেছে কোর্ট।আদালতের পর্যবেক্ষণ, নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। সেই দুর্নীতি মেরামতির কোনও সুযোগ আর নেই।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এদিন স্পষ্ট বলেন, পুরো প্যানেল বাতিল করে দেওয়ার পরে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এখন বলছেন, বহু লোকের জীবন নষ্ট হয়ে গিয়েছে, রায় পুনর্বিবেচনা করা হোক। তিনি মন্তব্য করেন, আমাদের হাতে কোনও জাদুদণ্ড নেই। শীর্ষ আদালত জানায়,যখন কোনও নিয়োগ খারিজ হয়, তখন ভাল পড়ুয়ারাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কিন্তু যাঁরা ভালো পড়ুয়া, তাঁরা আবার নিযুক্ত হয়ে যাবেন। এর আগে কলকাতা হাই কোর্ট ২০১৬ সালের পুরো প্যানেল বাতিল করেছিল। শীর্ষ আদালত সেই রায়কেই বহাল রেখে প্রায় ২৫,৭৫২ জনের চাকরি বাতিল করেছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া নিয়েও মামলা গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। পুরোনোদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অতিরিক্ত দশ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ফুলমার্কস পেয়েও মেধার অতিরিক্ত নম্বর না পাওয়ায় অনেক নবাগত প্রার্থী ভেরিফিকেশনে ডাক পাননি। এই নতুন নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্ত বিতর্ক সুপ্রিম কোর্ট পুনরায় কলকাতা হাইকোর্টে পাঠিয়ে দিয়েছে। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, কোর্টের নির্দেশ ছিল দুর্নীতিমুক্ত পরীক্ষা।
কিন্তু নতুনদের পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত এসএসসি নিয়েছে। এখন বাকিটা তাদেরই সামলাতে হবে। প্রয়োজনে মামলাকারীরা কলকাতা হাইকোর্টে আর্জি জানাতে পারেন। যদিও পুরনো দুর্নীতির তালিকায় থাকা প্রার্থীদের নিয়ে হাই কোর্টে তৎপরতা রয়েছে। বিচারপতি অমৃতা সিনহা নির্দেশ দিয়েছেন, এসএসসি-কে ৭২৯৩ জন টেন্টেড প্রার্থীর বিস্তারিত তালিকা নতুন করে প্রকাশ করতে হবে। তবে গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি পদে আবেদনপত্র জমা করার শেষ তারিখে শীর্ষ আদালত কোনও হস্তক্ষেপ করেনি।















