গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আগামী ৫ জানুয়ারি গঙ্গাসাগরে যাওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন তিনি। সেই সঙ্গে মুড়িগঙ্গা নদীর উপর প্রস্তাবিত নতুন সেতুর কাজ শুরুর ঘোষণাও করার কথা। তবে মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগেই গঙ্গাসাগরে জনসভা করে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তৃণমূল সরকার গঙ্গাসাগরের ব্রিজ করতে পারবে না। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে এখনও কোনও সবুজ সংকেত মেলেনি। ভোটের আগে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে ব্রিজের গল্প শোনানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, বিজেপি যদি ২০২৬ সালে বাংলায় ক্ষমতায় আসে, তবেই গঙ্গাসাগরের ব্রিজ বাস্তবায়িত হবে।
এদিনের সভা থেকে রাজ্য সরকারের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনকেও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। সভার অনুমতি নিয়ে জটিলতার অভিযোগ তুলে সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে গঙ্গাসাগর থানার আধিকারিকদের উদ্দেশে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য রাখেন বিরোধী দলনেতা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের হিন্দু যুবক দীপু দাসের নৃশংস মৃত্যু অশনি সংকেত। দীপু দাসের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কথা জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, তিনি নিজে প্রথম আর্থিক সাহায্য পাঠাবেন এবং এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই নিহত যুবকের বাবার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে।
এছাড়াও বাবরি মসজিদ প্রসঙ্গ টেনে রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাবরের নাম ব্যবহারের বিষয়টি বাতিল করা হবে। ২০২৬ সালের আগে গঙ্গাসাগরের সভাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনীতিতে যে উত্তাপ বাড়ছে, এদিনের বক্তব্য তারই ইঙ্গিত দিল।















