মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে গঙ্গাসাগর মেলায় পুণ্যার্থীর ঢল অব্যাহত। সাগরতটে এখন শুধুই জনসমুদ্র। রাজ্য প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর ৩টে পর্যন্ত প্রায় ৬০ লক্ষ পুণ্যার্থী মেলায় উপস্থিত হয়েছেন। রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস জানিয়েছেন, এ বছর পুণ্যস্নানের মাহেন্দ্রক্ষণ শুরু হচ্ছে বুধবার দুপুর ১টা ১৯ মিনিটে। এই শুভ সময় বজায় থাকবে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ১৯ মিনিট পর্যন্ত। অর্থাৎ স্নানের জন্য প্রায় ২৪ ঘণ্টা সময় পাবেন তীর্থযাত্রীরা। মেলা প্রাঙ্গণ থেকে কেন্দ্র সরকারের কাছে গঙ্গাসাগর মেলাকে ‘জাতীয় মেলা’ হিসেবে ঘোষণার দাবি পুনরায় জানিয়েছেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবি এই মেলাকে জাতীয় মেলা ঘোষণা করতে হবে। মানুষের মধ্য থেকেই এই দাবি আরও জোরালোভাবে উঠে আসবে’। লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড় সামলাতে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে প্রশাসন। এখনও পর্যন্ত মেলা চত্বরে ২৫টি পকেটমারির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২০টি ক্ষেত্রেই খোয়া যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগে মোট ১১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়া ৮৮৯ জনের মধ্যে ৮৩৫ জনকে ইতিমধ্যেই পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা।
এবারের মেলায় সমস্ত বাস, ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স ও সরকারি যানবাহনে জিপিএস লাগানো হয়েছে। মেগা কন্ট্রোল রুম থেকে পিটিএমএস-এর মাধ্যমে প্রতিটি মুহূর্তের যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এবারের মেলায় দুর্ঘটনাজনিত বিমার অঙ্ক রাখা হয়েছে ৫ লক্ষ টাকা। এই সুরক্ষাকবচের আওতায় পুণ্যার্থী ছাড়াও রয়েছেন পুলিশ, সাংবাদিক, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা। বয়স্ক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে মেলায় পৃথক শৌচালয়, পানীয় জল, যাতায়াত ব্যবস্থা ও দ্রুত চিকিৎসার বিশেষ ইউনিট রাখা হয়েছে। নির্বিঘ্নে মেলা সম্পন্ন করতে তৎপর জেলা প্রশাসন।















