বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই সুন্দরবন সংলগ্ন দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। শনিবার কাকদ্বীপের উকিলের বাজারের কাছারি মাঠে আয়োজিত বিজেপির ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’-র জনসভা থেকে রাজ্য সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর নিশানায় ছিল সুন্দরবনের অনুন্নয়ন, দুর্নীতি এবং কর্মসংস্থানের অভাব।
এদিনের সভা থেকে রাজ্য সরকারের ঘোষিত গঙ্গাসাগর সেতু প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলীপ ঘোষ একে ‘বড় ভাওতাবাজি’ বলে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, ‘কোনও টেন্ডার নেই, অথচ ভোটের আগে দিদিমণি সাধারণ মানুষকে ললিপপ দেখাচ্ছেন’। তাঁর দাবি, স্বাধীনতার সাত দশক পেরিয়ে গেলেও সুন্দরবনের মানুষের ভাগ্যের কোনও আমূল পরিবর্তন হয়নি। শিক্ষা ও চিকিৎসার মান অত্যন্ত শোচনীয় এবং কর্মসংস্থানের অভাবে এলাকার যুবসমাজকে বাধ্য হয়ে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিতে হচ্ছে।
চাষিদের দুর্দশা নিয়ে সরব হয়ে তিনি অভিযোগ করেন, কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য কোনও কোল্ড স্টোরেজ তৈরি করেনি সরকার। উল্টে কেন্দ্রের টাকায় নির্মিত কিষাণ মাণ্ডিগুলি আজ মদের আসরে পরিণত হয়েছে, যেখানে সবুজ সাথীর সাইকেল স্তূপ করে রাখা থাকে। সুন্দরবনের নদী বাঁধ ও রাস্তা মেরামতির বরাদ্দের টাকা সাধারণ মানুষের কাছে না পৌঁছে সরাসরি তৃণমূল নেতাদের পকেটে যাচ্ছে বলেও তিনি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন।
সভার অন্য এক আকর্ষন ছিল যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি ইন্দ্রনীল খাঁ কর্তৃক সাগর বিধানসভার দুর্নীতির খতিয়ান বা ‘চার্জশিট’ প্রকাশ। দিলীপ ঘোষ আরও দাবি করেন, ভুয়া ভোটারের জোরেই তৃণমূল এতদিন ক্ষমতা দখল করে রেখেছিল। তবে এবার নির্বাচন কমিশন সেই কারচুপি ধরছে বলে দাবি করে তিনি বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও বিধায়কের কেন্দ্র থেকে কত ভোটারের নাম বাদ যাচ্ছে, তার একটি আগাম পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে সুন্দরবনবাসীর মন জয় করতে উন্নয়নের অভাব ও দুর্নীতিকেই প্রধান হাতিয়ার করল গেরুয়া শিবির।













