কলকাতার জলপথে এল আধুনিকতার ছোঁয়া। গঙ্গা নদীপথে যাতায়াত আরও নিরাপদ ও দ্রুত করতে হাওড়া-সহ পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তৈরি হচ্ছে অত্যাধুনিক জেটি ও যাত্রী টার্মিনাল। এই প্রকল্পে মোট খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ২২৫ কোটি টাকা। আগামী দু’বছরের মধ্যেই নির্মাণ কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, গঙ্গাপথের আধুনিকীকরণের এটি একটি বিশাল পদক্ষেপ। পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটে এই আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণ শুরু হয়েছে হাওড়া, শিপিং, নাজিরগঞ্জ, চুঁচুড়া এবং পানিহাটি। এই টার্মিনালগুলিতে অত্যাধুনিক যাত্রী প্রতীক্ষালয় থাকবে।
থাকছে নিরাপদ নোঙরের সুব্যবস্থা এবং নতুন গ্যাংওয়ে-কাম পন্টুন। নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বসানো হচ্ছে সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা। পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার ব্যবস্থাও থাকছে। এই নতুন উদ্যোগের ফলে কলকাতার গঙ্গা জলপথে যাতায়াত আরও অনেক বেশি নিরাপদ ও আরামদায়ক হবে। পাশাপাশি জলপথে পণ্য পরিবহণেও গতি আসবে। এর ফলস্বরূপ সড়ক পথের উপরে চাপ অনেকটাই কমবে বলে মনে করছে পরিবহণ দফতর। হাওড়া জেলার সাঁকরাইল ব্লকের পোদরা ঘাটে তৈরি হচ্ছে আধুনিক আরসিসি জেটি।
বহু বছর আগে একটি ভুটভুটি ডুবে যাওয়ার পর ঘাটটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। নতুন করে সেই ঘাট চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বুধবার হাওড়ার বিধায়ক নন্দিতা চৌধুরী এই নতুন পোদরা লঞ্চঘাট ঘুরে দেখেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতির নির্দেশক অজয় দে। সমবায় সমিতির কর্তারা বিধায়কের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, ঘাটটি যেন তাঁদের হাতে পরিচালনার জন্য দেওয়া হয়। বিধায়িকা জানিয়েছেন, তিনি দ্রুত বিষয়টি রাজ্য সরকারকে জানাবেন। সমবায় সমিতির সদস্যদের আশা, এই নতুন কাঠামো তৈরি হলে স্থানীয় মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমবে। নিয়মিত ফেরি চলাচল শুরু হলে এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। পশ্চিমবঙ্গ অভ্যন্তরীণ জলপথ পরিবহণ, লজিস্টিকস ও স্পেশাল ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় নাজিরগঞ্জ ঘাটে তৈরি হচ্ছে আর একটি অত্যাধুনিক যাত্রী টার্মিনাল। এখানে লঞ্চ চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের আধুনিক সুবিধাই থাকবে।
পরিবহণ দপ্তরের কর্তাদের দাবি, এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে হাওড়া-সহ উত্তর ও মধ্য হুগলি অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের নদীপথে যাতায়াত সুগম হবে। এর ফলে পর্যটন, ক্ষুদ্র শিল্প এবং পণ্য পরিবহণের কাজেও বিশেষ সুবিধা হবে। এই নতুন উদ্যোগ শহর ও শহরতলির যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন আধিকারিকেরা। সড়ক ও রেলের উপরে চাপ কমিয়ে গঙ্গা নদীপথই হয়ে উঠতে পারে ভবিষ্যতের অন্যতম প্রধান পরিবহণ মাধ্যম।













