Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

চাকদহ থেকে শাসকদলকে বিঁধলেন শুভেন্দু

চাকদহ থেকে শাসকদলকে বিঁধলেন শুভেন্দু

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার রাজনীতিতে এখন সবথেকে বড় ইস্যু ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’। তৃণমূলের প্রধান প্রচারের হাতিয়ারকে এবার ভোঁতা করতে মরিয়া বিজেপি। শুক্রবার নদিয়ার চাকদহের সভা থেকে রাজ্যের শাসকদলকে সেই সুরেই আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূলের রটনা নস্যাৎ করে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ হবে না, বরং টাকার পরিমাণ বাড়ানো হবে।

 

ওড়িশা, হরিয়ানা বা দিল্লির বিজেপি শাসিত রাজ্যের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, বাংলার মা-বোনেরা আরও বেশি সম্মান পাবেন। বিজেপির এই রণকৌশল আসলে তৃণমূলের ‘বন্ধ করে দেবে’ ন্যারেটিভকে রুখতে। গত মাসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কলকাতায় এসে যে অভয়বাণী দিয়েছিলেন, চাকদহের মাটিতে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু যেন তাতে সিলমোহর দিলেন।

 

শুভেন্দু অধিকারী পরিসংখ্যান দিয়ে জানান, ওড়িশায় মহিলারা বছরে এককালীন ৫০ হাজার টাকা পান। হরিয়ানায় দেওয়া হয় ২১০০ টাকা। মহারাষ্ট্রে দেবেন্দ্র ফড়ণবীসরা দেন ২০০০ টাকা। দিল্লিতেও আড়াই হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, বাংলার মানুষকে ভয় দেখিয়ে ভোট নেওয়ার যে খেলা তৃণমূল শুরু করেছে, তা এবার আর খাটবে না। এদিন সভার শুরু থেকেই নদিয়ার স্থানীয় রাজনীতির পারদ ছিল চড়া। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসার কথা মনে করিয়ে শুভেন্দু অভিযোগ করেন, বিজেপি প্রার্থী বঙ্কিম ঘোষ জেতার পর চাকদহের গ্রাম ও শহরজুড়ে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাণ্ডব চালিয়েছিল। দোকানপাট লুট করা হয়েছিল, একজন বিজেপি কর্মীকে আত্মবলিদান দিয়েছিল বলে জানান তিনি ।

 

চাকদহের সেই যন্ত্রণার ইতিহাস উস্কে দিয়ে তিনি এবার পাল্টা লড়াইয়ের ডাক দেন। রানাঘাট দক্ষিণের বিধায়ক মুকুটমণি অধিকারীকেও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর অভিযোগ, রানাঘাট দক্ষিণে মুকুটমণির হয়ে দুষ্কৃতীরা ব্যাপক তান্ডব চালিয়েছিল। চাকদহের পাশাপাশি হরিণঘাটার প্রসঙ্গও এদিন উঠে আসে শুভেন্দুর বক্তৃতায়। গত বছরের একটি ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে তিনি জানান, হরিণঘাটায় তৃণমূলের বুথ সভাপতি হালিম মণ্ডল সরস্বতী পুজো করতে বাধা দিয়েছিলেন। সেই সময় বিধায়ক অসীম সরকারকে সামনে রেখে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন শুভেন্দু নিজে। চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সেখানে সরস্বতী পুজো করে দেখিয়েছিলেন। হিন্দু ভাবাবেগ এবং উন্নয়নের মিশেলে শুভেন্দু দাবি করেন, প্রতি বছর এসএসসি এবং স্বচ্ছভাবে সরকারি চাকরি চাইলে বিজেপিকেই ক্ষমতায় আনতে হবে। একমাত্র বিজেপিই রাজ্যে শিল্প আনতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।

 

এদিনের সভায় সিপিএম-কেও রেয়াত করেননি শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বামেদের ৫ শতাংশের পার্টি বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর দাবি, সিপিএম এখন শুধুই ভোট কাটুয়া দল এবং তৃণমূলের ‘বি টিম’। অন্যদিকে, রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকার অভিযোগ তোলেন এসআইআর বা ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে। তাঁর দাবি, এক শ্রেণির তৃণমূল মনোভাবাপন্ন বিএলও চক্রান্ত করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে দিচ্ছে। সবমিলিয়ে চাকদহের এই সভায় শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দেন, আগামী নির্বাচনে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে তৃণমূলের একচেটিয়া অধিকারে থাবা বসাতে তৈরি বিজেপি।

READ MORE.....