ভোটের বাদ্যি এখনও বাজেনি। তবে মেজাজ চড়াতে কসুর করছেন না রাজনৈতিক কারবারিরা। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে দলের নেতা ও কর্মীদের রণহুঙ্কার দিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার কলকাতায় অটলবিহারী বাজপেয়ীর জন্মজয়ন্তী পালন অনুষ্ঠানে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, আগামী বিধানসভা নির্বাচনই তাঁদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। তাঁর মতে, এটাই শেষ সুযোগ। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলে আগামী দিনে দলের টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়বে। এদিন ন্যাশনাল লাইব্রেরির মঞ্চে দাঁড়িয়ে সরাসরি ‘মারণ কামড়ে’র বার্তা দিলেন তিনি। শমীকের দাবি অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলায় তৃণমূলের পতন নিশ্চিত। শাসকদলকে উৎখাত করার জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযানেরও প্রয়োজন নেই। সাধারণ মানুষই শাসকদলকে বিদায় করতে তৈরি। তবে কর্মীদের অতি আত্মবিশ্বাসী হতে বারণ করেছেন তিনি।
তাঁর মতে, স্রেফ বক্তৃতা দিয়ে ভোট মিলবে না। বিজেপি যে সরকার গড়তে তৈরি, সেই বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এসআইআর প্রকল্পে নাম তোলার কাজ নিয়েও কর্মীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। তৃণমূল এই প্রকল্প নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ শমীকের। প্রথাগত ভোটব্যাঙ্ক বাঁচাতে ঘরে ঘরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এদিন মঞ্চে শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার ও সুনীল বনসলদের উপস্থিতিতেই শমীক স্মরণ করিয়ে দেন আদর্শের কথা। তিনি জানান, অনেকেই আজীবন দলের পতাকা আঁকড়ে পড়ে আছেন। কিন্তু গণতন্ত্রে জয়ই শেষ কথা। মানুষের পরিত্রাণ চাইলে বিজেপিকে জিততেই হবে। তাঁর কথায়, গঙ্গা থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত ডবল ইঞ্জিন সরকার গড়ার এটাই মাহেন্দ্রক্ষণ।
সিপিএমকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। ১৯৪৭ সালে বামপন্থীদের ভূমিকার সমালোচনা করে তাদের মিথ্যাচারের জবাব দেওয়ার ডাক দেন রাজ্য সভাপতি।
দলের অন্দরের নেতাদের টিকিট বা পদের আশা না করে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শমীকের মতে, মানুষ বিজেপিকে ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। কেবল দল নির্বাচনে জয়লাভ করার মতো প্রস্তুত কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। বাংলা ভাগের ইতিহাস এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শকে পাথেয় করে ছাব্বিশের বৈতরণী পার হওয়াই এখন গেরুয়া শিবিরের মূল লক্ষ্য।













