ছিনতাইয়ের ৬৩ হাজার টাকা অবশেষে উদ্ধার করল নয়াগ্রাম থানার পুলিশ। শনাক্তকরণের জন্য টিআই প্যারেডের পর অভিযুক্ত শেক রাজুকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই উদ্ধার হয় পুরো ছিনতাই হওয়া টাকা। পাশাপাশি বাজেয়াপ্ত হয়েছে ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরবাইকটিও। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৬ জুন দুপুর দেড়টা নাগাদ নয়াগ্রাম থানার অন্তর্গত ভুদ্রবনি ও দোলগ্রামের মাঝে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। রঘুনাথ বেরা নামে এক ব্যক্তি বালিগেড়িয়া এসবিআই শাখা থেকে ৬৩ হাজার টাকা তুলে স্কুটিতে করে দোলগ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময় এক অজানা মোটরবাইক আরোহী তাঁর পথ আটকায় এবং নগদ টাকা ছিনতাই করে চম্পট দেয়। ঘটনার পরেই নয়াগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন রঘুনাথবাবু।
তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ব্যাঙ্কের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেন তদন্তকারী অফিসার, যেখানে স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে অভিযুক্তের চেহারা। সেখান থেকেই সূত্র ধরে অন্যান্য থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্ত হলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুর টাউন থানার পাঁচবেড়িয়া এলাকার বাসিন্দা শেক রাজু ওরফে বান্টি। ২৩ জুলাই গোপন সূত্রে খবর পেয়ে নয়াগ্রাম থানার পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। আদালতের নির্দেশে টিআই প্যারেডের মাধ্যমে সনাক্তকরণ হয় এবং পরে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ।
সেখান থেকেই উঠে আসে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, যার ভিত্তিতে উদ্ধার হয় ছিনতাই হওয়া টাকা। পাশাপাশি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে অপরাধে ব্যবহৃত বাইকটিও। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত শেক রাজু একজন কুখ্যাত দাগি দুষ্কৃতী। বিভিন্ন থানায় তার নামে একাধিক চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং থানা এলাকাতেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। পেশায় অটোচালক হলেও তার আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত স্বচ্ছল। জানা গিয়েছে, তার বাড়িতে ৬ থেকে ৭টি এয়ার কন্ডিশনার রয়েছে। পুলিশের দাবি, চুরি ও ছিনতাইয়ে বিশেষভাবে পারদর্শী শেক রাজুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।














