জাতীয় সঙ্গীতের মতো এ বার জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম’ বাজলেও উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানানো বাধ্যতামূলক করল কেন্দ্র। বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নয়া নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। দেশবাসীর মধ্যে দেশপ্রেম ও শৃঙ্খলার বোধ জাগিয়ে তুলতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠান এবং স্কুলগুলিতে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ গাওয়ার ঠিক পরেই বাজাতে হবে ‘বন্দে মাতরম’। তবে দু’টি গান একসঙ্গে গাওয়ার ক্ষেত্রে সূচিতে কিছুটা বদল আনা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গান একসঙ্গে গাওয়া হলে আগে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া হবে এবং তার পরে গাওয়া হবে ‘জন গণ মন’।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী এই সৃষ্টির ছ’টি স্তবকই এখন থেকে পরিবেশন করতে হবে। উল্লেখ্য, ১৯৩৭ সালে কংগ্রেস আমলে গানটির চারটি স্তবক বাদ দেওয়া হয়েছিল। কেন্দ্রের এই নির্দেশে সেই পুরনো স্তবকগুলিকেও ফিরিয়ে আনা হল। পদ্ম পুরস্কারের মতো অসামরিক সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান হোক বা রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে কোনও সরকারি কর্মসূচি, সর্বত্রই ‘বন্দে মাতরম’ বাজানো এবং উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানানো আবশ্যিক। রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানে প্রবেশ এবং প্রস্থানের সময়ও এই গান বাজানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে কিছু ক্ষেত্রে ছাড়ও দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সিনেমা হলে এই গান বাজানো বাধ্যতামূলক নয়। পাশাপাশি কোনও নিউজিল্যান্ড বা তথ্যচিত্রের অংশ হিসেবে যদি এই গানটি ব্যবহৃত হয়, সে ক্ষেত্রে দর্শকদের উঠে দাঁড়াতে হবে না। কারণ, এতে ছবি দেখায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিপূর্বেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। গত বছর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অভিযোগ করেছিলেন, জওহরলাল নেহরু মুসলিমদের তুষ্ট করতেই এই গানের চারটি স্তবক বাদ দিয়েছিলেন। কংগ্রেস সেই অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল।
এবার ছ’টি স্তবকই গাওয়ার নির্দেশ সেই রাজনৈতিক বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। স্কুলগুলির ক্ষেত্রেও কেন্দ্র কড়া নির্দেশ দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে জাতীয় পতাকা ও জাতীয় প্রতীকের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বাড়াতে স্কুল কর্তৃপক্ষকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। প্রতিটি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর অফিশিয়াল সংস্করণ এমনভাবে গাইতে হবে যাতে উপস্থিত সকলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাতে অংশ নিতে পারেন। সামগ্রিকভাবে নাগরিকদের মধ্যে জাতীয় প্রতীকের প্রতি সম্মান বৃদ্ধি করতেই এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।















