বিধানসভা উপনির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে জয়ের পর এবার রাজ্যের পুরসভাগুলিকে পাখির চোখ করছে বিজেপি। কলকাতা ও হাওড়া-সহ একাধিক পুরসভায় আসন্ন নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের প্রস্তুত হওয়ার বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার মুরলীধর সেন লেন থেকে ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউস পর্যন্ত বিজেপির বিজয় মিছিলের শেষে আয়োজিত জনসভায় তিনি পুরসভাগুলিতে দলের জয়ের আহ্বান জানান।
তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে রাজ্যে ট্রিপল ইঞ্জিন সরকারের লক্ষ্যও। পুজোর মরশুমের পর কলকাতা ও হাওড়া-সহ একাধিক পুরসভায় নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। কলকাতায় মেয়র ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগের পর পুরপ্রশাসনের দায়িত্ব কমিশনারের হাতে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হাওড়াতেও পুরপ্রশাসন পরিচালনা নিয়ে একই পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দুই শহরের পুরসভা দখলের লক্ষ্য সামনে রেখে দলীয় কর্মীদের বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু।
জনসভায় তিনি বলেন, রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার গঠনের পর এবার কলকাতা ও হাওড়ার মতো পুরসভাতেও বিজেপির নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের পাশাপাশি পুরসভায় একই দলের প্রশাসন থাকলে শহরের পরিকাঠামো এবং নাগরিক পরিষেবার উন্নয়নে কাজ করা সহজ হবে। এই লক্ষ্যেই পুরভোটে বিজেপিকে সমর্থন করার আহ্বান জানান তিনি। এদিনের বিজয় মিছিলে শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং রেজিনগরের নবনির্বাচিত বিধায়ক শাখারভ সরকার ও নন্দীগ্রামের নবনির্বাচিত বিধায়ক হাসিরানী রথ-সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। রেজিনগরে বিজেপির জয় প্রসঙ্গে শুভেন্দু বিরোধীদের প্রচারের সমালোচনা করেন।
তাঁর বক্তব্য, বিজেপি ক্ষমতায় এলে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের নাগরিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা বিপন্ন হবে বলে যে প্রচার করা হয়েছিল, নির্বাচনের ফল সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষও বিজেপির পাশে এসেছেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে এই বক্তব্য তাঁর রাজনৈতিক মূল্যায়ন হিসেবেই উঠে এসেছে। বিধানসভা উপনির্বাচনের ফলের পর পুরভোটকে সামনে রেখে বিজেপির এই কর্মসূচি রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াইকে নতুন মাত্রা দিল। কলকাতা ও হাওড়ার পুরসভা নির্বাচন কবে হবে এবং সেই নির্বাচনে কোন দল কী কৌশল নেবে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।














