ভারতীয় টেনিসে যেন ইতিহাস লেখা হল । শুরু হল নয়া এক অধ্যায় । ডেভিস কাপ টাইয়ের নির্ণায়ক পঞ্চম ম্যাচে চাপ সামলে দুর্দান্ত জয় ছিনিয়ে নিয়ে ভারতকে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ৩–২ ব্যবধানে জয় উপহার দিলেন দক্ষিণেশ্বর সুরেশ । জয়ের সঙ্গে সঙ্গে কোয়ালিফায়ার রাউন্ড ২-এ জায়গা করে নিয়েছে ভারত । কেরিয়ারে মাত্র দ্বিতীয় ডেভিস কাপ টাই খেলতে নেমেই ২৫ বছর বয়সী দক্ষিণেশ্বর কার্যত ম্যাচ-উইনারে পরিণত হয়ে গেলেন । পুরো টাইয়ে তিনি তিনটি ম্যাচ খেলেছেন । তিনটি ম্যাচেই জয় পান । যার মধ্যে রয়েছে দুটি সিঙ্গলস এবং একটি ডাবলস। ভারতীয় ডেভিস কাপ ইতিহাসে এমন কৃতিত্ব বিরল । অনেকের মনেই ২০০৪ সালে জাপানের বিরুদ্ধে লিয়েন্ডার পেসের অবিস্মরণীয় পারফরম্যান্সের কথা উঠে এসেছে।
প্রসঙ্গত এই মুহূর্তে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ৪৬৫ নম্বরে থাকা দক্ষিণেশ্বর নির্ণায়ক ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের গাই ডি ওউডেনের বিরুদ্ধে অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দেন । চাপের মুহূর্তে নিজের সার্ভ ধরে রেখে তিনি ৬-৪, ৭-৬ (৪) গেমে ম্যাচ জিতে নেন। শেষ ফোরহ্যান্ড উইনার মারার পরই কোর্টে শুয়ে পড়েন তিনি। সতীর্থরা ছুটে এসে তাঁকে জড়িয়ে ধরেন । পরে তাঁকে কাঁধে তুলে উদযাপন চলে বেঙ্গালুরুর গ্যালারিজুড়ে।
নেদারল্যান্ডস বিশ্বের ৬ নম্বর দল হলেও তারা এই টাইয়ে তাদের শীর্ষ দুই সিঙ্গলস খেলোয়াড়, ট্যালন গ্রিকস্পুর এবং বোটিক ভ্যান ডি জ্যান্ডশুল্পকে পায়নি। বলা ভালো ভারতকে কিছুটা অবহেলার চোখে দেখে এই তারকারা এই টাই খেলতে চাননি । সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ডেভিস কাপ র্যাঙ্কিংয়ে ৩৩ নম্বরে থাকা ভারত ম্যাচটি নিজেদের দখলে নেয় । দিনের শুরুতে স্কোর ছিল ১-১। ডাবলসে যুকি ভামব্রি ও দক্ষিণেশ্বর প্রায় তিন ঘণ্টার ম্যারাথন ম্যাচে ডেভিড পেল ও স্যান্ডার অ্যারেন্ডসকে ৭-৬ (০), ৩-৬, ৭-৬ (১) গেমে হারিয়ে ভারতকে ২-১ ব্যবধানে লিড দেন।
এই ম্যাচে অধিনায়ক রোহিত রাজপাল-এর দক্ষিণেশ্বরকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে উঠে আসে । চতুর্থ ম্যাচে সুমিত নাগাল লড়াই করেও জেসপার ডি জংয়ের কাছে হেরে যান । ফলে টাই গড়ায় নির্ণায়ক পঞ্চম ম্যাচে। সেখানেই মঞ্চে আলো কেড়ে নিয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়ে ইতিহাস রচনা করেন দক্ষিণেশ্বর। ২০১৯ সালে নতুন ডেভিস কাপ ফর্ম্যাট চালু হয় । সেই ঘটনার পর এই প্রথম ভারত কোয়ালিফায়ারের দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠল। পরবর্তী রাউন্ডে ভারতের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া। গত বছর ঘরের মাঠে সুইজারল্যান্ডকে হারানোর পর ইউরোপীয় দলের বিরুদ্ধে টানা এই জয় ভারতীয় টেনিসের জন্য নিঃসন্দেহে বড় পাওনা তা আর আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না।















