Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

তারাতলা কাণ্ডে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী

তারাতলা কাণ্ডে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী

তারাতলার ব্রেসব্রিজে নির্মীয়মাণ গোডাউন বিপর্যয়ের জেরে কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতা পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে তিনি স্পষ্ট জানান, নির্মাণের প্ল্যানেই গুরুতর ত্রুটি ছিল। একইসঙ্গে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত গোটা কলকাতা পুরসভা এলাকায় সমস্ত বাণিজ্যিক ও সন্দেহজনক বহুতলের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এই সময়ের মধ্যে প্রতিটি সাইটে চলবে পুঙ্খানুপুঙ্খ অডিট।

 

সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি এই বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন পায় এবং জমিটি লিজ নিয়েছিলেন শম্ভুনাথ বেহরা নামে এক ব্যক্তি। মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় বুধবার ভেঙে পড়ে তিনতলা গুদামটি। তিনি বলেন, আগের জমানায় বহু ক্ষেত্রে জলাশয় বুজিয়ে বা নিয়ম ভেঙে প্ল্যান অনুমোদন করানো হয়েছে, এবং সব কমার্শিয়াল সাইট খতিয়ে দেখা হবে। পিডব্লুডি, সিভিল ডিফেন্স, ফায়ার, কলকাতা পুলিশ ও কেএমডিএ-র বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি যৌথ অডিট টিম তৈরি করা হচ্ছে, যা ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেবে। যাদের কাগজপত্র ও পরিকাঠামো ঠিক থাকবে, তারা ১ আগস্ট থেকে ফের কাজ শুরু করতে পারবে। তবে হাসপাতাল, দমকল, মেট্রো ও সেনার কাজ এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে। মেট্রো ও পোর্ট ট্রাস্ট এলাকাতেও তাদের সহযোগিতা নিয়ে অডিট হবে।

 

আইনি পদক্ষেপ ও ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে আগামীকাল বিধানসভায় বিবৃতি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।উদ্ধারকাজের খতিয়ান দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কলকাতা পুলিশ, দমকল ও সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি জানান, দুপুর আড়াইটে নাগাদ মুখ্যসচিবের সঙ্গে আলোচনার পরই উদ্ধারকাজে সেনার সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়, এবং সেনাবাহিনী অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে দ্রুত সাড়া দেয়। ভারী লোহার চাঙর ক্রেনে সরাতে গেলে ভেতরে আটকে থাকাদের ক্ষতির আশঙ্কা থাকায় ভার্টিকাল ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। কারা কোথায় আটকে, তা বুঝতে ড্রোন ও স্নিফার ডগের সাহায্য নেওয়া হয়েছে।বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে মোট ১৮ জনকে, এবং এই দুর্ঘটনায় প্রাণ গিয়েছে ৩ জনের।

 

আহতদের গ্রিন করিডর করে এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে উদ্ধারকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে মোট ২০টি অ্যাম্বুল্যান্স। ভেতরে এখনও কয়েকজন শ্রমিক আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং জল ও অক্সিজেন পাঠানো হচ্ছে।দুপুর ১২টা ৭ মিনিট নাগাদ ব্রেসব্রিজের কাছে ৭৯ নম্বর ওয়ার্ডের এই নির্মীয়মাণ গুদামটির লোহার ছাদ আচমকা হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ঘটনার আগে থেকেই কাঠামোটি অস্বাভাবিকভাবে দুলছিল, এবং তা পরীক্ষা করতে ছাদের ওপরে-নিচে জড়ো হওয়া শ্রমিকরাই বিপর্যয়ের মুখে পড়েন। ঘটনার সময় সেখানে কর্মরত ছিলেন প্রায় ৫০-৬০ জন শ্রমিক। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই গাফিলতির নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

READ MORE.....