জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। এসআইআর বাতিল করতে হবে এবং ব্যালট পেপারের মাধ্যমে নির্বাচন করতে হবে।’ এই ৩ দাবি তুলে রাজধানী দিল্লির রাজপথে কেন্দ্রের মোদি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় তুলল ইন্ডিয়া জোট। ২ অক্টোবর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ইন্ডিয়া জোটের ডাকে দেশজুড়ে যে সপ্তাহব্যাপী আন্দোলন চলছে, এই মিছিল তারই অংশ। তবে এদিন বিরোধীদের মিছিলে দেখা যায়নি ডিএমকে এবং আম আদমি পার্টিকে। বৈঠকে না থাকলেও মিছিলে পা মেলান সপা প্রধান অখিলেশ যাদব।
ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ঝাঁঝ আরও বাড়াল বিরোধী শিবির। এসআইআর-এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার সংসদ থেকে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের দিকে মিছিল করে যান বিরোধী সাংসদরা। নির্বাচন সদনে পৌঁছনোর আগেই মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। এরপর সেখানেই অবস্থান-বিক্ষোভে বসেন বিরোধী নেতারা। মিছিল ঘিরে সংসদ চত্বর এবং নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরের আশপাশে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। কেন্দ্রীয় দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। নির্বাচন সদনের দিকে বিরোধী সাংসদদের মিছিল এগিয়ে যাওয়া আটকাতেই এই ব্যবস্থা বলে জানা যায়। নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ব্যারিকেড টপকে জাতীয় পতাকা হাতে তুলে ধরেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। এরপরই তাঁকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।
ইন্ডিয়া জোটের ‘সেভ ডেমোক্রেসি’ মিছিল থেকে রাহুল গান্ধির পাশাপাশি প্রিয়ঙ্কা গান্ধি বঢরা, মল্লিকার্জুন খাড়্গে, অখিলেশ যাদব-সহ একাধিক শীর্ষ বিরোধী সাংসদকেও আটক করা হয়। পার্লামেন্ট স্ট্রিটে পরিবহণ ভবনের কাছে এবং নীতি আয়োগ থেকে আকাশবাণী ভবনের মধ্যবর্তী এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ। প্রশাসনের দাবি, বড় জমায়েতের জন্য কোনও আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র ৩০ জন সাংসদকে নির্বাচন কমিশনের দফতরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সেখানে ২০০-রও বেশি সাংসদ জড়ো হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারিকেড দেওয়া হয়। এরপর পুলিশের ব্যারিকেডের উপর উঠে তেরঙ্গা হাতে তুলে ধরেন রাহুল গান্ধী। পরে অন্যান্য বিরোধী নেতাদের সঙ্গে রাস্তায় বসে ধর্নায় সামিল হন তিনি।
পুলিশ বাসে করে তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। আটক হওয়ার পরও আকাশবাণী ভবনের গেটের কাছে বসে বিক্ষোভ চালিয়ে যান বিরোধী নেতারা। বেশ কয়েকজনকে দেখা গিয়েছে ব্যারিকেডের উপরে বসে থাকতে। একটা সময় পরে ব্যারিকেডে চড়ে বসেন রাহুল নিজেও। ব্যারিকেডের উপরে বসে তেরঙ্গা ওড়াতে দেখা যায় তাঁকে । এদিন ধরনায় অভিষেক ছাড়াও ছিলেন রাজ্যসভার দুই তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন এবং রাজীব কুমার। এদিন মিছিল চলাকালীন ‘ভোট চোর, গদি ছোড়’ স্লোগান তোলেন বিরোধী সাংসদরা।
সেই দেখে অনেকেই মনে করিয়ে দিয়েছেন অভিষেকের এক পুরনো বক্তব্য। রাহুল গান্ধী তখন ভোট চুরির অভিযোগে সরব। কিন্তু অভিষেক খানিক দায়সারাভাবেই বলেছিলেন, এমন চুরি হয়ে থাকলে প্রমাণ হওয়া উচিত। কিন্তু সেই অভিষেকই আজ বললেন, বাংলা-সহ নানা রাজ্যে ভোট চুরি হয়েছে। এসআইআর করে ভোটাধিকার কাড়া হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবির সঙ্গে এবার সরাসরি গ্রেফতারির দাবিও তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঙ্গলবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে ইন্ডিয়া জোটের মিছিল চলাকালীন জ্ঞানেশকে নিশানা করে একের পর এক অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, ভোটারদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে যে অভিযোগ বিরোধীরা এত দিন করে আসছিলেন, সাম্প্রতিক সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। অভিষেকের অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সিদ্ধান্তে বাংলা, বিহার এবং মহারাষ্ট্রে বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। ট্রাইব্যুনালে লক্ষ লক্ষ নাম অমীমাংসিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, মানুষের ভোটের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তাই শুধু পদত্যাগ চাইলেই হবে না, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারির পদক্ষেপও প্রয়োজন।














