বাংলার বিধানসভা ভোটে এ বার সর্বকালীন রেকর্ড গড়তে চলেছে তৃণমূল। দু’দফার ভোট মিটতেই অভ্যন্তরীণ সমীক্ষায় এমনটাই দাবি করছে রাজ্যের শাসকদল। তৃণমূলের অন্দরের খবর, এ বার বিধানসভায় তারা ২৩০টির বেশি আসন দখল করবে। খোদ তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর দল ‘দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবেই’। সাধারণ মানুষের ‘ক্রোধের রায়’ এ বার ব্যালট বক্সে বিজেপির বিরুদ্ধে গিয়েছে বলে মনে করছে জোড়াফুল শিবির।
তৃণমূলের দাবি, বিজেপির মেরুকরণ এবং অনুপ্রবেশের অভিযোগের বদলে বাঙালি আবেগ এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির ‘হেনস্থা’ বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষত এসআইআরের নামে সাধারণ মানুষকে উত্যক্ত করার বিষয়টি বিজেপির জন্য ব্যুমেরাং হয়েছে। তৃণমূল সূত্রে খবর, উত্তরপ্রদেশ বা গুজরাত থেকে আসা ‘বহিরাগত’ তকমা এবং অজয়পাল শর্মার হুঁশিয়ারি-ভিডিও সাধারণ ভোটারের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণ বলছে, গুজরাত থেকে আসা ‘গুন্ডা’রা বাঙালিদের হুমকি দিচ্ছে— এই প্রচার মানুষের মনে গেঁথে গিয়েছে। হাইপ্রোফাইল দুই কেন্দ্র নিয়ে শাসকদলের অন্দরে কোনও টেনশন নেই। ভবানীপুর আসনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ছেন বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
এই আসন নিয়ে তৃণমূলের দাবি, ভবানীপুরে শুভেন্দুর কোনও ‘অস্তিত্বই’ নেই। অন্যদিকে নন্দীগ্রাম আসনেও তৃণমূল নিজেদের সুবিধাজনক অবস্থানে রাখছে। গতবার নন্দীগ্রামে মমতা পরাজিত হলেও এ বার শুভেন্দুর বিপরীতে পবিত্র করের জয় নিয়ে আশাবাদী কালীঘাট। তৃণমূলের দাবি, ৪ মে গণনার দিন রবীন্দ্রসঙ্গীত এবং ‘ডিজে’ দুই-ই বাজবে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আগাম ঘোষণা ফল নিয়ে আত্মবিশ্বাসেরই প্রতিফলন। এ বারের ভোটে মহিলা ভোটারদের বড় অংশ তৃণমূলের পাশে সঙ্ঘবদ্ধ হয়েছে বলে মনে করছে সমীক্ষা।
পাশাপাশি, পিছিয়ে পড়া জেলাগুলিতে পরিযায়ী শ্রমিকদের সমর্থন তৃণমূলের পাল্লা ভারী করেছে। তৃণমূলের দাবি, বাংলাদেশি বলে ধারাবাহিক আক্রমণ আদতে মানুষের মনে পাল্টা জেদ তৈরি করেছে। সব মিলিয়ে শাসকদলের দাবি, এ বার রেকর্ড ব্যবধানে জিতে হ্যাটট্রিক করবে তারা। ‘বহিরাগত’ তত্ত্বের কাছে দিল্লি-গুজরাত থেকে আসা বিজেপি নেতাদের দাপট ফিকে হয়ে গিয়েছে বলেই জোড়াফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে উঠে আসছে। এখন দেখার ৪ মে বক্স খুললে এই আত্মবিশ্বাস কতটা বাস্তবসম্মত প্রমাণিত হয়। ফাইল ফটো।














