Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

বুথে বুথে মমতা, নিশানায় কমিশন-বাহিনী

বুথে বুথে মমতা, নিশানায় কমিশন-বাহিনী

রাতভর জাগরণ। আর সকাল হতেই রণংদেহি মেজাজে পথে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ভবানীপুরের ঘরের মাঠে বুথ পরিদর্শনে বেরিয়েই মেজাজ হারালেন তিনি। সরাসরি আঙুল তুললেন নির্বাচন কমিশন, পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর দিকে। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, জেলায় জেলায় বেছে বেছে তৃণমূল কর্মীদেরই নিশানা করছে বাহিনী। রীতিমতো রেওয়াজ ভেঙে এদিন সকাল থেকেই সক্রিয় মেজাজে দেখা গেল তৃণমূলনেত্রীকে।
ভোটের দিন সাধারণত ঘরের ভেতর থেকেই রণকৌশল স্থির করেন মমতা। বেলা গড়ালে মিত্র ইনস্টিটিউশনে গিয়ে নিজের ভোট দিয়ে বাড়ি ফেরেন। কিন্তু বুধবারের ছবিটা ছিল একেবারে অন্যরকম। সকাল হতেই কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে চেতলায় পৌঁছন তিনি। ফিরহাদ হাকিমের পাড়ায় গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন মমতা। সোমবার রাতে ফিরহাদের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ পর্যবেক্ষকদের যাওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বলেন, ‘মাঝরাতে গিয়ে ববির বাড়ি গিয়ে দরজায় ধাক্কা দিচ্ছে। মহিলারা আতঙ্কিত!’ নেত্রীর অভিযোগ, শুধু কলকাতাই নয়, মঙ্গলবার সারা রাত জুড়ে জেলাগুলিতে তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের ওপর অত্যাচার চালানো হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে তিনি নিজেও ঘুমোননি। চেতলা থেকে মমতার গাড়ি পৌঁছয় চক্রবেড়িয়ার ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানে কাউন্সিলরের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রবেশের ঘটনা নিয়ে রীতিমতো সরব হন মমতা। পুলিশ ছাড়া কেন বাহিনী অন্দরে ঢুকল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, ‘কেন্দ্রীয় বাহিনী যখন গিয়েছিল, তখন বাড়িতে ওঁর স্ত্রী একা ছিলেন। ফোন কেড়ে নেওয়া নিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে।’

 

এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সরাসরি আক্রমণ শানান পর্যবেক্ষকদের বিরুদ্ধে। মমতার কথায়, ‘আমরা সকলে চাই নির্বিঘ্নে ভোট মিটুক। তবে বাইরে থেকে অনেক পুলিশ অফিসার নিয়ে এসেছে। তারা বাংলাকে বোঝে না। গতকাল রাতে সারা বাংলা জুড়ে অত্যাচার করেছে। আমি সারা রাত জেগে ছিলাম। পর্যবেক্ষকেরা থানায় গিয়ে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করছে। শুধু আমাদের দলকে নিশানা করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, সব তৃণমূলের এজেন্টকে গ্রেফতার করো। আমার দলের যুব সভাপতিকে আজ সকালেই গ্রেফতার করেছিল। পরে ববি গিয়ে ছাড়িয়ে আনে।’ ভাঙড়ে তৃণমূল কর্মীকে মারধর থেকে শুরু করে এজেন্টদের হেনস্থা— প্রতিটি অভিযোগের পাল্টা জবাব দিতে রাজপথে নামেন তিনি।

 

তৃণমূলের পক্ষ থেকে সোশাল মিডিয়ায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, ‘মমতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন আমরাও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই। কিন্তু বিজেপির নোংরা কৌশল চলতে থাকলে আমরা চুপ থাকব না।’ তৃণমূলের দাবি, বিজেপির ‘ভয়’ ও দমনের রাজনীতি পশ্চিমবঙ্গে চলবে না। সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয় শক্তির অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সকাল থেকেই চষে বেড়িয়ে কঠিন প্রতিরোধের বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার ভোট পর্বে নেত্রীর এই ‘স্ট্রিট ফাইট’ এক নতুন মাত্রা যোগ করল। কেন্দ্র ও রাজ্যের এই সংঘাতের আবহে বুধবার দিনভর সরগরম থাকল ভবানীপুরসহ গোটা রাজ্য। শেষ পর্যন্ত কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিজের অবস্থানে অনড় থাকলেন মমতা। ছবি সংগৃহিত।

READ MORE.....