বিধানসভা ভোটের আগেই উত্তপ্ত বালি। দুষ্কৃতীদের ছোঁড়া গুলিতে গুরুতর জখম এক তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান ও তাঁর সঙ্গী। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে এই ঘটনায় বিজেপির দিকে অভিযোগের আঙুল তোলা হলেও বিরোধীদের দাবি ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। বৃহস্পতিবার রাতের ওই ঘটনায় দুষ্কৃতিদের কয়েক রাউন্ড এলোপাথাড়ি গুলিতে হাওড়ার নিশ্চিন্দায় স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান ও তাঁর এক সহযোগী গুরুতর জখম হন।
এদিন রাতে হাওড়ার বালির নিশ্চিন্দায় বুড়ো শিবতলার কাছে ওই ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, বালি-জগাছা পঞ্চায়েত সমিতির সাঁপুইপাড়া-বসুকাটী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দেবব্রত মন্ডল তাঁর সঙ্গী অনুপম রানাকে নিয়ে যখন এক বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তখনই অতর্কিতে ওই এলোপাথাড়ি গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। দু’জনেই গুলিতে জখম হন বলে জানা গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে আসে বিশাল পুলিশ বাহিনী। গুলিবিদ্ধ দু’জনকেই প্রথমে বেলুড় স্টেট জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে উত্তর হাওড়ার আইএলএস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় পঞ্চায়েত প্রধান দেবব্রত মন্ডলকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এদিন খবর পেয়েই হাসপাতালে ছুটে আসেন হাওড়া জেলা সদর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি উত্তর হাওড়ার বিধায়ক গৌতম চৌধুরী।
হাসপাতালে আসেন ডোমজুড়ের বিধায়ক কল্যাণ ঘোষ, হাওড়া জেলা যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি কৈলাশ মিশ্র, ডোমজুড়ের যুব সভাপতি নুরাজ মোল্লা। অন্যদিকে, ঘটনাস্থলে আসেন হাওড়ার পুলিশ কমিশনার প্রবীণ কুমার ত্রিপাঠী সহ অন্যান্য পুলিশ কর্তারাও। এই ঘটনার পিছনে কে বা কারা রয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে, বসু নামের এক দুষ্কৃতির নামে অভিযোগ তুলেছেন পঞ্চায়েত প্রধানের অনুগামীরা। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অনুপমের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন এলাকার ওই পঞ্চায়েত প্রধান। তখনই একটি মোটরবাইকে করে এসে দু’জন খুব কাছ থেকে দেবব্রতকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তাঁর কোমর ও কাঁধে গুলি লাগে। অনুপম বাধা দিতে গেলে তাঁকেও গুলি করে দ্রুত চম্পট দেয় অভিযুক্তরা। এরা দুজনেই গুলিবিদ্ধ হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন।
আশপাশের লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। বিধায়ক কল্যাণ ঘোষ বলেন, বিয়েবাড়ি থেকে ফেরার সময় দেবব্রত ওরফে বাবু এবং তার যে গাড়ি চালাচ্ছিল তাকে গুলি করা হয়। এরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দুষ্কৃতীদের কড়া সাজা দেওয়ার আবেদন করেছি। সে যেই হোক এর ফল ভোগ করতে হবে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করে দেখবে। ঘটনাটি দুষ্কৃতী নিজে করেছেন নাকি অন্য কেউ করিয়েছে সেটা পুলিশ তদন্ত করে দেখবে। তৃণমূল কর্মী তন্ময় বাগ বলেন, বিয়েবাড়ি থেকে বেরনোর সময় সাঁপুইপাড়া বসুকাটী গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান দেবব্রত মন্ডল সহ অনুপম রানার উপর গুলি চালানো হয়। দুজনেই গুলিবিদ্ধ হন। দাদার ডান হাতে গুলি লাগায় রক্তাক্ত হয়ে পড়েন। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আততায়ী এসে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়।
এদিকে, হাওড়া সিটি পুলিশের কমিশনার প্রবীণ কুমার ত্রিপাঠী বলেন, ওনার চিকিৎসা শুরু হয়েছে। তদন্ত চলছে। এই গুলি কান্ডের ঘটনায় যে বা যারা যারা যুক্ত আছে তাদের ধরা হবে। দুজনের গুলি লেগেছে। একজনের লোয়ার অ্যাবডোমেনে এবং কানে লেগেছে। অন্যজনের হাতে লেগেছে। তৃণমূল জেলা সভাপতি গৌতম চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। বিষয়টি আমরা দেখছি। কি কারণে গুলি চললো এখনও কিছু বোঝা যাচ্ছে না। পঞ্চায়েত প্রধানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে হাওড়া সিটি পুলিশের কমিশনার গিয়েছেন। আমরা চাইছি তাড়াতাড়ি যাতে উনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।














