৪৭ হাজার ভোটারের নাম ‘ভ্যানিশ’! ভবানীপুরের সেই বাদ পড়া ভোটারদের ধর্মতলার ধরনা মঞ্চে হাজির করে শনিবার এক নজিরবিহীন প্রতিবাদ দেখালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নিশানায় সরাসরি বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল নেত্রীর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বৈধ নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বিজেপির কথায় কমিশন ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ আচরণ করছে বলে তোপ দাগেন তিনি।
শনিবার ধর্মতলার মঞ্চে হাজির ছিল একদল মানুষ, যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। তাঁদের দেখিয়ে মমতা বলেন, ‘বিজেপি ও কমিশন সাধারণের ভোটাধিকার কাড়ছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়কে অমান্য করছে।’ নেত্রীর অভিযোগ, ‘নটি-ন্যাস্টি বিজেপি পক্ষপাতদুষ্ট কমিশনকে ব্যবহার করে এই কাজ করছে।’ ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি নির্দেশ দেন, ‘বিজেপি ও কমিশন নাম ভ্যানিশ করেছে। জনগণকে কাগজ দেখান।’
এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর দেখা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরেই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ গিয়েছে। মমতা এদিন সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, ‘সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট আধার কার্ড যুক্ত করতে বলেছিল। কিছু করেনি। এটা মাত্র কয়টি উদাহরণ। আরও ভোটার রয়েছে। বিজেপির কথায় কমিশন এই কাজ করেছে।’ গোটা বিষয়টি নিয়ে তিনি ‘জনতার দরবারে’ বিচার চেয়েছেন।
বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, নোটবন্দির পর এবার ‘ভোটবন্দি’র রাজনীতি শুরু হয়েছে। কমিশনকে ব্যবহার করে বাংলায় জেতার স্বপ্ন দেখছে গেরুয়া শিবির। মমতার কথায়, ‘ওরা বিজ্ঞাপন দেয় ভোটারদের নিয়েই গণতন্ত্র। তাহলে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে কেন? ভারতের জনগণকে জবাব দিতেই হবে।’ সংবিধান ও গণতন্ত্র বিপন্ন দাবি করে তিনি সাফ জানান, কেউ লড়াই না করলেও বাংলা লড়বে এবং মানুষই এর উপযুক্ত জবাব দেবে।















