একদিকে আয়ের পাহাড়, অন্যদিকে আকাশছোঁয়া খরচের বোঝা— ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে ঠিক এই অবস্থাই তৈরি হয়েছে আমেরিকার আয়োজক শহরগুলির। এই টুর্নামেন্ট থেকে আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ামক সংস্থা ফিফা বিপুল পরিমাণ আয় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু এই সুবিশাল ক্রীড়াযজ্ঞ আয়োজনের অধিকাংশ খরচই বইতে হচ্ছে আমেরিকার বিভিন্ন শহর ও সেখানকার সাধারণ করদাতাদের।
এই বৈষম্য নিয়ে আয়োজক শহরগুলির মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে, যা আগামী ২০৩১ সালের মহিলাদের বিশ্বকাপ আয়োজনের ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এ প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে, বিশ্বকাপের টিকিট, মিডিয়া রাইটস, স্পনসরশিপ বা সম্প্রচার স্বত্ব থেকে ফিফা সিংহভাগ অর্থ নিজেদের ঝুলিতে পুরবে। কিন্তু স্টেডিয়ামের বাইরের পরিকাঠামো, নিরাপত্তা, পরিবহণ এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবাগুলোর খরচের সম্পূর্ণ দায়ভার আয়োজক শহরগুলির ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কানসাস সিটির নতুন বিশ্বকাপ জেল (২৫.৮ মিলিয়ন ডলার বা ২৫ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা), ডালাসে তৈরি ব্রডকাস্ট সেন্টারের খরচ (১৫ মিলিয়ন ডলার বা ১৫ কোটি টাকা) এবং মেটলাইফ স্টেডিয়ামের পিচ মেরামতির খরচ (১৩ মিলিয়ন ডলার বা ১৩ কোটি টাকা)।
তাছাড়া, মিসৌরি, জর্জিয়া এবং ফ্লোরিডার মতো রাজ্যগুলিকে বিশ্বকাপ আয়োজনের আকর্ষণ বাড়াতে কর ছাড় দিতে হয়েছে, যার ফলে তাদের প্রায় ৫৭.৮ মিলিয়ন ডলার (৫৭ কোটি ৮০ লক্ষ টাকারও বেশি) রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। এই বিপুল খরচের বোঝা সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে শহরগুলিকে। অথচ ফিফা স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের আয়ের টাকা বিশ্বের বিভিন্ন পিছিয়ে পড়া দেশে ফুটবলের উন্নয়নে খরচ করা হবে। এমনকি, আয়োজকদের স্থানীয় স্পনসর নেওয়ার ক্ষেত্রেও ফিফার কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যাতে তাদের নিজেদের গ্লোবাল স্পনসরদের সঙ্গে কোনও সংঘাত তৈরি না হয়।
এর ফলে শহরগুলির আয় করার পথও কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এই চরম বৈষম্যের কারণেই আমেরিকার ২১টি শহর একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছে, যেখানে তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, ২০৩১ সালের মহিলাদের বিশ্বকাপ আয়োজনের আগে ফিফাকে এই চুক্তি পুনর্বিবেচনা করতে হবে। শহরগুলির মূল দাবি— খরচের ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়া এবং ফিফার আয়ের একটা অংশ তাদের দেওয়া, যাতে স্থানীয় করদাতাদের ওপর এই বিপুল খরচের চাপ কমানো যায়। এর আগে শিকাগোর মতো বড় শহর এই খরচের চাপেই ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ার দৌড় থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছিল। এবার মহিলাদের বিশ্বকাপের ক্ষেত্রেও ফিফা যদি তাদের নীতি পরিবর্তন না করে, তবে আগামী দিনে বড় শহরগুলিকে আয়োজক হিসেবে পাওয়া ফিফার পক্ষে বেশ কঠিন হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।













