Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

ধ্বংসের পথে ‘বন্দে মাতরম’-স্রষ্টার বাসভবন

ধ্বংসের পথে ‘বন্দে মাতরম’-স্রষ্টার বাসভবন

ঠিক যখন দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘বন্দে মাতরম’-এর সার্ধশতবর্ষ, তখনই তার অমর স্রষ্টা সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিবিজড়িত একটি বাড়ি ধ্বংসের মুখে। হাওড়ার ২১৮ পঞ্চাননতলা রোডে অবস্থিত এই ঐতিহ্যবাহী ভাড়াবাড়িটি বছরের পর বছর ধরে চরম অবহেলা ও অনাদরের শিকার। বাড়িটির ভগ্নদশা দেখে স্থানীয় নাগরিকরা এবং ইতিহাসবিদরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বহু বছর ধরে বাড়িটি সংরক্ষণের দাবি উঠলেও তা আজও দিনের আলো দেখেনি। ইতিহাস বলছে, ১৮৮১ সালে বঙ্কিমচন্দ্র হাওড়ার প্রশাসক হিসেবে নিজের কর্মজীবন শুরু করেন।

 

প্রথমদিকে তিনি কলকাতা থেকে যাতায়াত করলেও পরে তিনি এই পঞ্চাননতলা রোডের বাড়িতে ভাড়া থাকতে শুরু করেন। দ্বিতীয় দফাতেও, ১৮৮৩ সালে যখন তিনি আবার হাওড়ার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে আসেন, তখন ১৮৮৬ সাল পর্যন্ত তিনি এই বাড়িতেই ছিলেন। এই বাড়িতে বসেই তিনি বিখ্যাত ‘মুচিরাম গুরের জীবনচরিত’ রচনা করেন। এর থেকেই বোঝা যায়, বাড়িটির ঐতিহাসিক এবং সাহিত্যিক গুরুত্ব ঠিক কতটা। তাহলে সংরক্ষণের উদ্যোগ ব্যর্থ হল কেন ? পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বাড়িটি একটি বেসরকারি মালিকানাধীন সম্পত্তি। একসময়ের হাওড়ার মেয়র রথীন চক্রবর্তী বাড়িটিকে ‘হেরিটেজ’ ঘোষণা করেন। সেই সময়েই বাড়িটি অধিগ্রহণ করে সেখানে একটি লাইব্রেরি ও সংগ্রহশালা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। এই প্রকল্পের জন্য ৫ কোটি টাকাও বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু বাড়ির মালিক বেঁকে বসায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিন মেরামত না হওয়ায় বাড়িটি বর্তমানে ভগ্নপ্রায় এবং হানাবাড়ির চেহারা নিয়েছে।

 

বাড়ি থেকে ইট-বালি খসে পড়ছে। এলাকার পরিবেশ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। বাড়ির পাশেই রয়েছে বঙ্কিম পার্ক। পার্কটি দেখভাল করে স্থানীয় একটি ক্লাব। কিন্তু অভিযোগ, পার্কটিকে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। হাওড়া সিটিজেন ফোরামের সম্পাদক শৈবাল বসু এ নিয়ে সরব হয়েছেন। তিনি বলেন,প্রাক্তন মেয়র সংরক্ষণের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কিছুই হয়নি। রাজ্য সরকার যে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল, সেই অর্থ কোথায় খরচ হয়েছে, তার কোনও তথ্য নেই। হাওড়া পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুজয় চক্রবর্তীও স্বীকার করেছেন,আমরা ক্ষমতায় এসে ওই ৫ কোটি টাকার কোনও হিসাব পাইনি।

 

যদিও বঙ্কিমচন্দ্র যেখানে তাঁর প্রশাসনিক কাজ করতেন, সেই হাওড়ার পুরোনো কালেক্টরেট ভবনের সিনিয়র ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের ঘরটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছিল জেলা প্রশাসন। সেখানে বঙ্কিমচন্দ্রের নামফলক, ছবি এবং তাঁর ব্যবহৃত টেবিল-চেয়ার রাখা রয়েছে। তবে ইতিহাসবিদ অনুপম মুখোপাধ্যায় দাবি করেন, বঙ্কিমচন্দ্র ওই ভবনের একাধিক ঘরে বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। তাই পুরো কালেক্টরেট ভবনটিকেই হেরিটেজ ঘোষণা করা উচিত। কিন্তু ব্যক্তিগত বাসভবনটি যেভাবে অবহেলায় ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে, তা সত্যিই চিন্তার বিষয়।

READ MORE.....