বিজেপি কর্মী মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। সোমবার নবদ্বীপে নিহত বিজেপি কর্মী সঞ্জয় ভৌমিকের বাড়িতে যান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সঞ্জয় ভৌমিকের প্রতিচ্ছবিতে মাল্যদান করার পর তিনি দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন নিহত কর্মীর অসুস্থ বাবা সুকুমার ভৌমিকের সঙ্গে। শুভেন্দু পরিবারকে আশ্বস্ত করেন যে বিচার পাবেন তারা। পাশাপাশি তিনি জানান, প্রয়োজনে গোটা ঘটনা নিয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন।
পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি তিনি শাসক তৃণমূল এবং জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শুভেন্দুর অভিযোগ, জেলা পুলিশ প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করছে না। তিনি কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার অমরনাথ কে-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন এবং দাবি করেন, খুন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তৃণমূল আশ্রিতদেরই হাত রয়েছে। শুভেন্দুর কথায়, ‘মমতার আমলে ধর্ষণ বা খুন করলে কেউ গ্রেফতার হয় না। তৃণমূল কাউকে সাসপেন্ড করলে তবেই পুলিশ গ্রেফতার করে।’
তিনি এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তীব্র কটাক্ষ করেন। বলেন, ‘দেবীপক্ষে মা কাঁদছেন। এটাই আসল পশ্চিমবঙ্গের চিত্র। অভয়ার মা কাঁদছেন, তামান্নার মা কাঁদছেন, আমাদের সঞ্জয়ের মা-ও কাঁদছেন।’
এদিন তিনি মুকুটমণি অধিকারীকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘লোকসভা ভোটে তিনি ১ লক্ষ ৮৪ হাজার ভোটে হেরেছিলেন, ছাপ্পা মেরে এমএলএ হয়েছেন। আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি হিন্দুদের ভোটেই বড় ব্যবধানে হারবেন।’ শুভেন্দু আরও কটাক্ষ করে বলেন, ‘মুকুটমণি অধিকারীকে এখন থেকেই প্রাক্তন এমএলএ লেখা প্যাড ছাপিয়ে রাখা উচিত।’শুধু তাই নয়, এদিন শুভেন্দু অধিকারী নবদ্বীপ বড়ালঘাটে আয়োজিত প্রতিবাদ সভাতেও বক্তব্য রাখেন।
প্রসঙ্গত, কয়েক দিন আগে নদীয়ার নবদ্বীপে বিজেপি কর্মী সঞ্জয় ভৌমিককে খুন করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। বিজেপির অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। তবে ঘটনার পর থেকেই উত্তপ্ত নবদ্বীপ। রাজনৈতিক তরজায় সরগরম রাজ্য রাজনীতি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সঞ্জয় ভৌমিক খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যে ফের তৃণমূল-বিজেপি তরজা চরমে উঠেছে। নবদ্বীপে শুভেন্দুর সফর রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে













